“নেসকো বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সহসভাপতি এখন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক”
নিজস্ব প্রতিবেদক : মো: সিরাজুল ইসলাম। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানিতে (নেসকো) ফোরম্যান-এ হিসেবে কর্মরত আছেন। জুলাই বিপ্লবের আগে তিনি আওয়ামী লীগ সমথি’ত নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। আর জুলাই বিপ্লবের পরে বিএনপি সমথি’ত নেসকো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।
শুধু সিরাজুল ইসলামই নয়, ১৯ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির অধিকাংশ সদস্যই জুলাই বিপ্লবের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে পরবর্তীতে তারা নানা কৌশলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সেই সুবাদে সিরাজুল ইসলাম সহ অন্যরা বিএনপি সমথি’ত নেসকো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের রাজশাহী জেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নেন।
কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্যাদি যাচাই করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে নেসকো বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রভাষ কুমার আচার্য্য ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সোহেলের স্বাক্ষরে রাজশাহীতে নেসকোর ১৩ সদস্যবিশিষ্ট বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগে কমিটি অনুমোদিত হয়। সেখানে সিরাজুল ইসলাম ছিলেন সহ-সভাপতি পদে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের একাধিক নেতা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যারা রোষানলে পড়েছিলেন, যাদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিল এবং যারা ত্যাগী তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়নি কমিটিতে। অথচ সুবিধাভোগীরা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নিয়েছেন। আমরা এ অবস্থার অবসান চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা বলেন, নেসকো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কারো সঙ্গেই আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় নেই। যদি প্রমাণ থাকে যে তারা পূর্বে শ্রমিক লীগের কমিটিতে ছিলেন কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন- সেগুলো যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেসকো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কমিটি অনুমোদনের জন্য নিয়মানুযায়ী মহানগর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে আমি এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য সচিবের সুপারিশ রয়েছে। এখন যে অভিযোগ উঠেছে তা আগে আমার জানা ছিল না।
এ বিষয়ে মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্ত করেই কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। অভিযুক্তরা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেসকো বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের কমিটিতে ছিলেন তার তথ্য প্রমাণ রয়েছে আপনার মত কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নেসকো জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি ফোনে কথা বলতে চাই না। অফিসে আসেন এ কথা বলেই মোবাইল সংযোগ কেটে দেন তিনি।