শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
রাজশাহী
17 Apr, 2026

বাঘায় ভয়াবহ লোডশেডিং, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ

বাঘা প্রতিনিধি: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৪৭ অপরাহ্ন রাজশাহী
বাঘা প্রতিনিধি: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৪৭ অপরাহ্ন
বাঘায় ভয়াবহ লোডশেডিং, ভোগান্তিতে  পরীক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ
ছবি সংগৃহীত

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শীঘ্রই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান বাঘার বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো।

লোডশেডিংয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এরমধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা ভাবের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরো বাড়তে পারে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বুধবার (১৫ এপ্রির) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পর পর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।

বাঘা পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সামিরা জান্নাত ও সানজিদ ইসলাম বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। গত কয়েক দিন শুধু রাতেই পাঁচ-সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে দুই ঘণ্টা পরে আসে। গরমের কারণে ঠিকমতো পড়া-লেখা ও ঘুমানো যাচ্ছে না।

উপজেলার জোতসায়েস্তা গ্রামের অটোরিকশাচালক খোরশেদ আলম বলেন, চার সদস্যের সংসার আমার। এই অটো চালিয়েই সংসার চলে। রাতে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ব্যাটারি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না। চার্জ না থাকায় ঠিকমতো ভাড়াও মারতে পারছি না। সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গেছে।

বাঘা উপজেলার বারখাদিয়া গ্রামের বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের দায়িত্ব প্রাপ্ত তোসলিম উদ্দিন বলেন, তার গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ১৯০ বিঘা বোরো জমি রয়েছে। গত প্রায় ১২দিন ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছি। ঠিকমতো জমিতে সেচ দিতে পারছি না। এমন পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক দিন চলে, তাহলে ধানের চরম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বারোখাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুস্তম আলী বলেন, ‘আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে। একঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।’

বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে। সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি, ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।