‘আইডল’ ম্যারাডোনার মৃত্যুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি ডাক্তারের
২০২০ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আর্জেন্টাইন লিজেন্ডের ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকুয়ে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তার আইডলের প্রতি কোনো অন্যায় কাজ করেননি তিনি।
২০২০ সালে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হন ম্যারাডোনা। তারপর তাকে বাসায় ফেরানোর কিছুদিন পর মৃত্যু হয় তার। বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসাজনিত অবহেলাকে দায়ী করে তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
লুকুয়ে বললেন, ‘আমি বলতে চাই আমি নির্দোষ এবং আমি তার মৃত্যুতে গভীরভাবে অনুতপ্ত।’ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আবেগে তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। একটু থেমে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে ভালোবাসতাম, তিনি ছিলেন আমার আইডল এবং আমার বন্ধু।’
৪৪ বছর বয়সী লুকুয়ের সঙ্গে অভিযুক্ত হিসেবে আছেন আরও ছয় জন স্বাস্থ্যকর্মী, যারা ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলোতে তার চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
২০২০ সালের নভেম্বরে আর্জেন্টাইন লিজেন্ড প্রয়াত হওয়ার পর তার সাত সদস্যের মেডিক্যাল টিমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ম্যারাডোনার সন্তানসহ সাক্ষীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আড়াই মাস পর বিচার কার্যক্রম মাঝপথে থমকে যায়।
ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে গত মঙ্গলবার নতুন করে বিচার শুরু হলো। এক বছর আগে এক বিচারককে ঘিরে কেলেঙ্কারির পর প্রথম বিচার ভেস্তে গিয়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে বিচার কার্যক্রম বাতিল হয়। বিচারক জুলিয়েতা মাকিনতাখের বিরুদ্ধে মামলাসংক্রান্ত একটি ডকুমেন্টারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে, যা ছিল নীতির লংঘন। ওই বিচারককে পরে অভিসংশন করা হয়।
এই নতুন বিচারে ১২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে এবং ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য তার মেডিক্যাল টিম দায়ী কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযুক্তদের তালিকায় আছেন চিকিৎসক, মনোবিদ ও নার্স। ম্যারাডোনা হাসপাতাল থেকে ফেরার পর তাদের কাছেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে চিকিৎসাজনিত অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ হলে ৮ থেকে ২৫ বছরের জেল হতে পারে।