শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজশাহী
15 Apr, 2026

দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে : রুয়েট উপাচার্য

WP Import ১৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৫২ অপরাহ্ন রাজশাহী
WP Import ১৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৫২ অপরাহ্ন
দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে : রুয়েট উপাচার্য
দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতে হবে : রুয়েট উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের যে চেতনা ও উদ্দেশ্য তা ধারণ করতে হবে’। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১০ টায় উপাচার্য রুয়েটের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এর পর জুলাই আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ২৪ জুলাই গণহত্যা বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্য জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হলেই বিজয় আসে না। ফ্রান্স বিপ্লবের নেতা নেপোলিয়ান বোনাপাট বলেছিলেন, খারাপ মানুষদের জন্য পৃথিবীকে যতটা না ভুগতে হয়েছে তার চাইতে বেশি ভুগতে হয়েছে যারা অন্যায় দেখেও চুপ থেকেছে। খারাপ কোন শাসকগোষ্ঠী যখন কোন দেশের ওপর চেপে বসে, তারা যখন অন্যায় নিপীড়ন চালাতে থাকেন, তাদের কারণের চাইতে আমরা যাদেরকে ভালো মানুষ বলে মনে করি তারা প্রতিবাদী না হয়ে ওঠার কারণে নিপীড়করা আরো বেয়াড়া হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, গত দেড় দশক ধরে আমরা দেখেছি, কথা বলতে না দেয়ার সংস্কৃতি। কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরানো সম্ভব হচ্ছিলো না কারণ, ছাত্র-জনতার যে ক্ষোভ তা সংগঠিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ক্ষোভগুলোকে সংগঠিত করার জন্য নেতৃত্বের যে দরকার ছিল, তার ঘাটতি ছিল। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের সেই ঘাটতি পূরণ হয়। তাদের বীরত্বের মাধ্যমেই আমরা অর্জন করেছি এই বিজয়। দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে জুলাই আন্দোলনের যে চেতনা ও উদ্দেশ্য ছিল তা ধারণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ’ আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ছাত্র কল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ, ফলিত বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের জিলানী ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল সহ জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী সহ বিভিন্ন অনুষদের ডীন, সকল পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, দফতর ও শাখা প্রধানগণ সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- বেলা ১১ টায় পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, সোয়া ১১ টায় জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে অতিথিবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ (জুলাই গল্প বলা) ও জুলাই ২৪-এ আহত যোদ্ধাদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান।