শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজশাহী
10 Apr, 2026

বিপ্লবী শিক্ষক প্রফেসর যোবদুল হকের আজ প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী

WP Import ১৬ জুলাই ২০২৫ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন রাজশাহী
WP Import ১৬ জুলাই ২০২৫ ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
বিপ্লবী শিক্ষক প্রফেসর যোবদুল হকের আজ প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী
বিপ্লবী শিক্ষক প্রফেসর যোবদুল হকের আজ প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী

জিল্লুর রহমান জয়: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক, শিক্ষাবিদ প্রফেসর যোবদুল হকের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আজ বুধবার (১৬জুলাই)। গুণি ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর যোবদুল হক আজকের এই দিনে ২০২৪ (১৬জুলাই) সালে ৮১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান। তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছিলেন।

১৯৪৩ সালের ১০ নভেম্বর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহাকুমার, শিবগঞ্জ থানার নয়ালাভাঙ্গা গ্রামে প্রফেসর যোবদুল হক জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মোঃ যুবের আলী, মাতা মোছাঃ জুলেখা খাতুন। যুবের আলীর ছিলো ৬ সন্তান। তারমধ্যে প্রফেসর যোবদুল হক ছিলেন বড়। মফিজন নেছার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের একজন কর্মকর্তা। এ কারণে মফিজন নেছা লেখাপড়া জানতেন। ধর্ম সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি বেড়ে উঠেছিলেন নানীর বাড়িতে। মেধাবী যোবদুল হক চুনাখালি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। স্থানীয় রানিহাটি হাইস্কুল থেকে ১৯৫৯ সালে অংকে লেটারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিক পাস করেন। ১৯৬১ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পান।

জীবদ্দশায় প্রফেসর যোবদুল হক শিক্ষা ও সমাজের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। তাঁর উদ্যোগে ও প্রশাসনিক দক্ষতায় আশি-নব্বই দশকে নকল ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়। ঈশ্বরদীতে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের অভাব বোধ থেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি বিজ্ঞানী হওয়ার। তবে প্রকৌশলীতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার পথে বিলম্ব হওয়ায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। ১৯৬৪ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রাজশাহী কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় প্রথম হন। পরের বছর এমএসসিতেও প্রথম শ্রেণি পান।

মাত্র ২২ বছর চার মাস বয়সে ১৯৬৬ সালে তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পদার্থবিদ্যায় শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর পিএসসির পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ১৯৬৭ সালে রংপুর সরকারি কারমাইকেল কলেজে যোগ দেন। একই বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সামার ফিজিকস ইনস্টিটিউটে অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষা ও সার্বিক কর্মদক্ষতায় প্রথম হন। রাজশাহী কলেজ, সিলেট এমসি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। যোবদুল হক মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ১৯৭৭ সালে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে উপাধ্যক্ষ হন।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকায় তীতুঁমীর কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। ২০০০ সাল পর্যন্ত রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রফেসর যোবদুল হক পুরস্কৃত হন শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে। ২০০০সালে অবসরে যান তিনি। ২০০৩ সালে শিক্ষক দিবসে ‘জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা’ সম্মাননাপত্র পান। শিক্ষাজীবনে তিনি যেমন দ্বিতীয় হননি, তেমনি পেশাজীবনেও ছিলেন সময়ের অগ্রনায়ক, অদ্বিতীয়।
আশির দশকে প্রফেসর যোবদুল হক উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রথমপত্র ও দ্বিতীয়পত্র দুটি বই লেখেন।

২০২৩ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার ‘শিক্ষকতায় সাড়ে তিন দশক আমার চ্যালেঞ্জ’ বইটি। মূলত তিনি শিক্ষকতায় ছিলেন সক্রেটিসের মতো। আর প্রশাসনে অনেকটাই বিপ্লবী। দেশের অসুস্থ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি চিন্তা করেছেন। শিক্ষকতা ও শিক্ষাপ্রশাসন নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ছিলেন। আজ প্রফেসর যোবদুল হকের নিজ বাড়িতে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষে তাঁর আত্মার মাগফিত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।