শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
রাজনীতি
10 Apr, 2026

রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াত জয়ী

WP Import ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ন রাজনীতি
WP Import ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ন
রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াত জয়ী
রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াত জয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক  : রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। আর বাকি দুটিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬০টি। ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি ভোট কাস্ট হয়। আর ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৮টি বৈধ ভোট বিবেচিত হয়, যার শতকরা হার ৭৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। বাতিল হয় ৭ হাজার ৯৮৬টি ভোট। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরিফ উদ্দিন পান ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু জয়ী হয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৬টি। মোট ভোট কাস্ট হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬টি। বৈধ ভোট বিবেচিত হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৪২টি। বাতিল হয় ৪ হাজার ৪৭৪টি ভোট। এ আসনে প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬টি ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট।

এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এ ছাড়া মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জয় পেয়েছেন। এ আসনে ভোটকেন্দ্র ছিল ১৩২টি। ভোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৮ জন। ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭টি ভোট কাস্ট হয়৷ বৈধ ভোট ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ২৬১টি। আর বাতিল হয় ৮ হাজার ১৪৬ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। বিএনপির শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮টি ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৬ জন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুল বারি সরদার জয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট কেন্দ্র ১২৩টি। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। প্রদত্ত মোট ভোট ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। বৈধ হয় ২ লাখ ২৭ হাজার ১১৬। আর বাতিল হয় ৪ হাজার ৭৪ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ। জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারি সরদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান পান ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৪ জন।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল জয় পেয়েছেন। আসনটিতে ১৩৩টি ভোটকেন্দ্র। মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬, বৈধ হয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৮টি। বাতিল হয় ৫ হাজার ৬৩৮ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল পান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৫ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৭ জন।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ জয়লাভ করেছেন। আসনটিতে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৯ জন ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র ছিল ১২০টি। মোট ভোট কাস্ট হয় ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০২টি। ভোট বৈধ বিবেচিত হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৫টি। বাতিল হয় ৭ হাজার ১০৭টি ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫টি ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৪ জন।

এরআগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ঘটেনি বলে বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সব বয়েসী নারী-পুরুষ ও তরুণ ভোটারেরা নির্বিঘ্নে ও স্বতস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।