ফাইনালে সর্বোচ্চ রানতাড়ায় জয়ের পথে পাকিস্তানের যত রেকর্ড
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে রোমাঞ্চকর ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৩২৬ রান তাড়ায় জিতেছে। অথচ চলতি সিরিজেই লঙ্কানদের সঙ্গে আগের দেখায় মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে ছিল পাকিস্তান। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দলটি ফাইনালে জয়ের পথে বেশকিছু রেকর্ড গড়েছে।
পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ফাইনালে যত রেকর্ড
৩২৬
লাহোরে শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে। সেই লক্ষ্য তাড়ায় ৯ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে। এর আগে ২০০২ সালে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ৩২৬ রানের লক্ষ্যতাড়ায় জিতেছিল ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান তাদের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। একইসঙ্গে এটি ওয়ানডে টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচেও সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়ায় জয়।
এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওয়ানডেতে জয়ের রেকর্ড ছিল। সেই কীর্তিও ছিল পাকিস্তানের দখলে, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। এবার বাবর-শাহিনরাই লঙ্কানদের দেওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২৬ রান তাড়ায় সফল।
৬৫৬
যৌথভাবে দুই দলের রান এটি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ কিংবা কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দুই দল মিলে এটাই সর্বোচ্চ। এর আগে ভারত-ইংল্যান্ডের ২০০২ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উভয় দল মিলে ৬৫১ রান করেছিল। গতকাল পাকিস্তান লঙ্কানদের লক্ষ্য পেরিয়ে ৩৩১ রান করে। অবশ্য ৬৫৬ রান ওয়ানডের নকআউটে তৃতীয় সর্বোচ্চ এগ্রিগেট।
৯
২০১৭ সালে (আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) পাকিস্তান সর্বশেষ কোনো ওয়ানডে বহুজাতি টুর্নামেন্টে জিতেছিল। এরপর ওয়অনডে বিশ্বকাপ ও একই ফরম্যাটের আরেকটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে থেমেছে তাদের দৌড়। ৯ বছর পর বহুজাতি ওয়ানডেতে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
এ ছাড়া ওয়ানডে ফরম্যাটের সর্বশেষ এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলতে পারেনি বাবর-ফখররা। ২০২৫ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে হয়েছিল রানার্সআপ।
২
এখন পর্যন্ত তিনটি ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন ফখর জামান। এর আগে পাকিস্তানের ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের ফাইনালেও তিনি ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিলেন। ওয়ানডেতে ত্রিদেশীয় সিরিজ বা টুর্নামেন্টের ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরি করা তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটার, আগে ওই কীর্তি ছিল শুধু সাঈদ আনোয়ারের।
৪
ওয়ানডেতে ৩০০–এর অধিক রানতাড়া করার পথে এখন পর্যন্ত চারটি সেঞ্চুরি করলেন ফখর। যা পাকিস্তানি কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ। এমন ম্যাচে বাবর আজম ও ইউনিস খানের তিনটি করে সেঞ্চুরি আছে।
২
বিশ্বের মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম আট ম্যাচে দুটি পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস ও দু’বার ফাইফার নিলেন পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস। প্রথম ১০ ওয়ানডেতে একই কীর্তি এর আগে ছিল নামিবিয়ার জেজে স্মিটের।
৯৬
ওয়ানডের ৯৬তম ইনিংসে ৪০০০ রান করেছেন ফখর, যা কোনো পাকিস্তানি ব্যাটারের দ্বিতীয় দ্রুততম। তার সামনে থাকা বাবর আজম ওই মাইলফলকে পৌঁছান ৮২ ইনিংসে।
৩৩১
লঙ্কানদের লক্ষ্য পেরোনোর পথে শাহিন আফ্রিদি ছয় হাঁকিয়ে পাকিস্তানের রান ৩৩১–এ নিয়ে যান। যা ওয়ানডে নকআউট ম্যাচে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তারা ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান করেছিল।
১৩১
লঙ্কান ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিসের করা ১৩১ রান ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সনাথ জয়াসুরিয়ার ১৮৯ রান করেছিলেন। দুইয়ে আছে ১৯৯৮ সালের ট্রায়াঙ্গুলার টুর্নামেন্টের ফাইনালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মারভান আতাপাত্তুর অপরাজিত ১৩২ রান।
কামিন্দুর ১৩১ রান পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ফাইনালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৩ রান করেছিলেন ব্রায়ান লারা, ১৯৯৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।