১৪ মিনিটে বেলজিয়ামকে চূর্ণবিচূর্ণ করলো ফ্রান্স
উয়েফা নেশনস লিগে আগের দেখায় ব্রাসেলসে শেষ দিকে ফ্রান্সের কাছে গোল খেয়ে হার মেনেছিল বেলজিয়াম। এবার সেন্ট ডেনিসে সেই হারের শোধ তোলার আভাস দিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ দিকে লিড হারাল। এতেই ১৪ মিনিটে বেলজিয়ামকে চূর্ণবিচূর্ণ করলো ফ্রান্স। শুধু তাই নয়, ১৪ মিনিটের ব্যবধানে চার গোল হজম করল।
জিনেদিন জিদান ঘরের মাঠে প্রথম জয়ের দেখা পেলেন। দেশের মাটিতে নিজের প্রথম ম্যাচে ইতালির সঙ্গে ড্র দেখেন ফ্রান্সের নতুন কোচ। ৪-১ গোলে জিতে চার ম্যাচ শেষে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে তারা।
প্রথমার্ধে দদি লুকবাকিও বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন। ৭৭ মিনিট পর্যন্ত তারা এই লিড ধরে রেখেছিল। তবে জিদানের বদলি খেলোয়াড়রা চমক দেখাল। শেষ ১৪ মিনিটে চার গোল দিলো ফ্রান্স। দেসিরে দুয়ে, রায়ান শেরকির পর মাইকেল ওলিসের জোড়া গোলে জিতল তারা।
দলে ডাক পাওয়া রোমেলু লুকাকু খেলার শুরুতেই সুযোগ পেয়ে যান। তিনি তার মার্কারকে কাটিয়ে শট নেন। তুলুস গোলকিপার গুইলুমে রেস্তেস তার অভিষেক ম্যাচে রুখে দেন সেই শট। তারপর লুকেবাকিওর ক্রসে নিকোলাস রাসকিনের হেড অল্পের জন্য বাইরে পাঠান। ফ্রান্স বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে।
বক্সের মধ্যে নাথান এনগোয়ের হাতে বল লাগলে ইতালি পেনাল্টির দাবি তুলেছিল। কিন্তু তাদের দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়। ৩৩তম মিনিটে ফ্রান্সের এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। উসমান দেম্বেলে ডাকদিক দিয়ে আক্রমণে যান। এস্তেবান লেপল তার কাছ থেকে বল পান। কিন্তু ১৪ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট বারের উপর দিয়ে যায়।
প্রায় এক মিনিট পর ফ্রান্স পিছিয়ে পড়ে। রোমিও লাভিয়ার লম্বা বল অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে নিয়ন্ত্রণে রেখে লক্ষ্যভেদ করেন লুকেবাকিও। বিরতির পর ফ্রান্স সমতা ফেরানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। মানু কোনের প্রচেষ্টা লাভিয়ার কাঁধে লেগে প্রতিহত হয়। তারপর দেম্বেলের বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কয়েক ইঞ্চি বাইরে দিয়ে যায়।
এক ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো গোল না হওয়ায় জিদানে শেরকি ও ওলিসেকে মাঠে নামান। শেরকি নেমেই তার বদলি সতীর্থের দিকে বল বাড়ান। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখ তারকার শট সরাসরি বেলজিয়াম কিপার মার্টান ভ্যান্ডাভুর্টের হাতে পড়ে।
আরবি লাইপজিগ কিপার তার অভিষেকে দারুণ এক সেভ করেন। শেরকির বাঁকানো শট আঙুলের ছোঁয়ায় লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন। ব্রাডলি বারকোলার শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে মাঠের বাইরে যায়।ফ্রান্সের তৃতীয় বদলি খেলোয়াড় দুয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে ঘুরে নিচু শটে দূরের কোণা দিয়ে জাল কাঁপান তিনি।
তিন মিনিট পর ওলিসে দ্রুত বাইলাইনের দিকে ছুটে যান এবং শেরকিকে দিয়ে গোল করান। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে ওলিসে রাসকিনকে আটকে রেখে ভ্যানডারভুর্টকে পরাস্ত করেন। তারপর যোগ করা সময়ে অলিসেকে দিয়ে চতুর্থ গোল করিয়ে প্যারিসে ফ্রান্সের দারুণ সমাপ্তি এনে দেন।