কেইনের পেনাল্টি মিসে, ইংল্যান্ডকে হারালো স্পেন
পেনাল্টি মিস করলেন হ্যারি কেইন। ইউরো ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও যেন হাতছাড়া হয়ে গেল। তার এই ব্যর্থতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডকে শাস্তি দিলো স্পেন। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে নেশনস লিগে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের ১০ সপ্তাহ পর মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। স্পেনের কাছে ২০২৪ ইউরো ফাইনালে হারের শোধ তুলতে চেয়েছিল তারা। শুরুতেই গোল খাওয়ার পর তারা দ্রুত লিড নেয়। বিরতির পর ব্যবধান দুই গোল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু কেইনের পেনাল্টি মিসের মাশুল দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। উল্টো আরও দুই গোল হজম করে হার মানতে হয়েছে। ওয়েম্বলিতে দারুণ জয়ে স্পেনের টানা অপরাজেয় থাকার ধারা এখন ৩৯ ম্যাচে পৌঁছেছে।
দ্বিতীয় মিনিটে মার্ক গুয়েহি ভুল করেন। রক্ষণে একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার খেয়াল করেননি তার পেছনে লামিন ইয়ামাল আছেন। বল নিয়ে পেছনে ঘুরতেই স্প্যানিশ তারকা কেড়ে নেন এবং সহজেই দূরের পোস্টের ভেতর দিয়ে স্বাগতিক গোলকিপার জেমস ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করেন।
ইংল্যান্ড দিশাহারা হয়ে পড়ে। বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক ফেরান তোরেসের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। তারপর স্বাগতিকদের এলোমেলো ডিফেন্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে তার আরেকটি শট রুখে দেন ট্রাফোর্ড।
ইয়ামালের দারুণ ফ্লিকে দানি ওলমোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও স্পেনের খেলা ভিন্ন স্তরের লাগছিল। নিকো উইলিয়ামসের পিছলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পাল্টা আক্রমণে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডন বল বাড়ান জুড বেলিংহামকে। হাফওয়ে লাইন থেকে তিনি আবার বল বাড়ান গর্ডনের কাছে। ২০ গজ দূর থেকে ৩৬তম মিনিটে নিচু শটে জাল কাঁপান তিনি।
ওয়েম্বলি যেন প্রাণ ফিরে পায়। কেইন তার একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যেতে দেখেন। কয়েক মুহূর্ত পরই ও’রেইলির ক্রসে তার হেড মার্ক কুকুরেলার প্রসারিত পায়ে লেগে জালে জড়ায়। সাবেক চেলসি লেফট ব্যাক প্রায়শ্চিত্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার শট ক্রসবারে আঘাত করে। স্পেনের সমতা ফেরানো হয়নি। বরং ইংল্যান্ড আরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। জারেল কুয়ানসার শট গোলবারের ওপর দিয়ে গেলে তা হয়নি।
বেলিংহাম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন। রদ্রির চ্যালেঞ্জে বক্সের মধ্যে তিনি পড়ে যান। রেফারি ডেভিড মাসা ঘটনাটি মনিটরে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ৫৪তম মিনিটে দলকে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন কেইন। কিন্তু শট নেওয়ার সময় তার পা পিছলে গিয়েছিল, বল তার দাঁড়ানো পায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে।
স্পেন সেই সুযোগ লুফে নেয়। অ্যালেক্স বায়েনাকে বদলি মাঠে নেমে তাৎক্ষণিক প্রভাব রাখেন। ইয়ামালের একটি ব্যাকহিল গোল হওয়ার বেশ কাছে ছিল। এরপর ও’রেইলির দুর্বল পাস ওলমো কাট করলে ২০ গজ দূর থেকে স্পেনকে সমতায় ফেরান বায়েনা।
বুকায়ো সাকার শক্তিশালী শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। স্পেন তাদের খেলার গতি বাড়িয়ে ৭৪তম মিনিটে লিড নেয়। বায়েনার পাস থেকে ট্রাফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে জালে বল ঠেলে দেন ওয়ারজাবাল। ইউরোর ফাইনালে যার গোলে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল, তিনিই আবার তাদের আশা কেড়ে নিলেন।