রাজশাহীতে মেসি ভক্তদের বিজয় উল্লাস
অবিশ্বাস্য বললেও হয়তো কম বলা হবে। ইতিহাসই বদলে ফেলল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। মিশরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল দিয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে বিশ্বকাপের সপ্তম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসিরা।
গতকাল নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য সন্ধার পর থেকেই আর্জেন্টিনা ভক্তদের আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী শহীদ মিনারে চোখে পড়ার মতো সমর্থক ছিলো আর্জেন্টিনারের।
এদিকে রাজশাহী নগরী জুড়ে মেসি ভক্তদের বিজয় উল্লাস। কান্নায় ভেজা চোখে পানি নিয়ে এমন বিজয় আনন্দ উল্রাসে মেতে উঠে আর্জেন্টিনার ভক্তরা। আর্জেন্টিনা যখত ৬৭ মিনিটে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন আর্জেন্টিনা ভক্তদের হৃদয় উপর পাহাড় বিরাজ করছিল।
৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে
ঢুকে পড়েন। তারপর ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির একটি ক্রসে চমৎকার হেডে বল
জালে জড়ান। এরপর ৮৪ মিনিটে ফুটবলের মহারাজা মেসির দারুন গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। তখনই যেন বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা ভক্তদের মাঝে। ৯০ মিনিট খেলা শেষে অতিরিক্ত ৭ মিনিট যুক্ত হলে অতিরিক্ত ২ মিনিটেই বক্সের মাঝখান থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। লাউতারো
মার্টিনেজের বাড়ানো ক্রসে দুর্দান্তভাবে মাথা ছুঁইয়ে বলটিকে কোনাকুনি জালে
জড়ান তিনি। তার এই চমৎকার হেডের সুবাদে দল এক অবিশ্বাস্য জয়সূচক গোল পায়।
গ্রুপ ‘জে’ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর রাউন্ড অব বত্রিশের মহানাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তারপর মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
প্রসঙ্গত কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হতে পারলে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড অথবা আর্লিং হাল্যান্ডের নরওয়ে।
সব বাধা পেরিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা যদি আবারও ফাইনালে ওঠে, তবে মেগা ফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স কিংবা স্পেন। টুর্নামেন্টের ছক অনুযায়ী, এই দুই পরাশক্তির সঙ্গে ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।