রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
08 Nov, 2026

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের রাজশাহী মহানগর সহ-সভাপতি লোটন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৪ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের রাজশাহী মহানগর সহ-সভাপতি লোটন গ্রেফতার

 কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর শাখার সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কাদিরগঞ্জ এলাকা থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাকে একটি পুরোনো বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে কাদিরগঞ্জের এএইচএম কামারুজ্জামান পারিবারিক কবরস্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে এসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়ো হন।

কবরস্থানের পাশেই মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটনের একটি ব্যক্তিগত চেম্বার রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় লোটনের ইন্ধন ছিল। এ ছাড়া ঘটনা আড়াল করতে তার চেম্বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ সময় চেম্বারে উপস্থিত বজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি নিজেকে ঠিকাদার ও বিএনপির সমর্থক পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনকে নিজের শ্যালক বলে দাবি করেন। সেখানে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে আলোচনা চলছিল বলেও জানান তিনি। তবে উপস্থিত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক লিমন গণমাধ্যমকে বলেন, কবরস্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় বাধা দিতে গেলে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রথমে যুবদল এবং পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তারা আওয়ামী লীগ নেতা লোটনকে পাশের একটি চেম্বারে দেখতে পান। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে তার মদদ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে চেম্বারের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও করেন লিমন।

তিনি আরও বলেন, চেম্বারে উপস্থিত বজলুর রহমান নিজেকে ঠিকাদার, বিএনপির সমর্থক ও সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লোটনকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাতে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ মাহফুজুল আলম লোটনকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বের একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোটনকে গ্রেফতারকালে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবীন, সদস্য সচিব ইমদাদুল হক লিমন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুল হক মিলন এবং বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি সামসুল আলম মিলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।