ফেনীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছেই, আক্রান্ত ছাড়াল ১ হাজার ৩০০
ফেনীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের পুরো সময়ে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০১ জন। অথচ চলতি বছরের ২ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯৪ জনে।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ছয় গুণেরও বেশি। এর মধ্যে নভেম্বরের প্রথম দুই দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আজ ২ নভেম্বর সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৬৮ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের শরীরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্ত সবাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ে বেসরকারিভাবে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪ জন। তবে আক্রান্তের তুলনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কম হলেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ফেনী সদর উপজেলায়। জেলায় মোট আক্রান্তের মধ্যে ১ হাজার ৮৭ জনই এ উপজেলার বাসিন্দা, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৮ শতাংশ। এ ছাড়া সোনাগাজীতে ১৩০ জন, দাগনভূঞায় ৯৫, ছাগলনাইয়ায় ৬৯, পরশুরামে ৩৪ এবং ফুলগাজীতে ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেনী সদর উপজেলাতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণের প্রধান চাপ রয়েছে। তবে জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯২০ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৭৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪১ জন। তাদের মধ্যে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জন।
এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে ২ হাজার ৪৩৮টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।