"নির্মাণ শেষেও পড়ে থাকা পাঁচ শিশু হাসপাতাল চালু হবে এ বছরেই"
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দীর্ঘদিনের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করা হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে একযোগে হাসপাতালগুলোর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
শনিবার দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে একযোগে পাঁচটি হাসপাতালের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
রামেক হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৩ সালে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়নি। ফলে এখনো মূলত ৫৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়েই হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকার জনগণকে ধোঁকা দিতেই ১ হাজার ২০০ শয্যার ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমান সরকার হাসপাতালটিতে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রামেক হাসপাতালসহ দেশের আরও সাতটি পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব হাসপাতালে জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রামেক হাসপাতালের সম্প্রসারণকাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে হাসপাতালটির বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব ও সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পদ্মা নদীর কারণে এ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও অনেক। কিন্তু অনেক সময় হাসপাতালে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনের লিফট সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অভিযোগ এবং লিফট স্থাপন না হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
পরে এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে লিফট সরবরাহ করেছিল, তা যথাযথ ছিল না বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেও পুনরায় তদন্ত করা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।