ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি পুনর্বাসন করা হবে হকারদের: রাসিক প্রশাসক
রাজশাহী মহানগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাসিক প্রশাসক।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ইতোমধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের একাংশের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর, জিরো পয়েন্ট, সোনাদীঘি মোড়, রেলগেট ও গণকপাড়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো ফুটপাত দখল হয়ে রয়েছে। এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চান তাঁরা। নগরীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হিসেবে তিনিও কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস করেন। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চান।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে বাধা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকির মুখে পড়ছেন উল্লেখ করে রাসিক প্রশাসক বলেন, এসব হুমকিতে তিনি ভীত নন। তাঁর জীবন থাকা পর্যন্ত রাজশাহীকে গোছানোর কাজ চালিয়ে যাবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, দখলমুক্ত, বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
এর আগে সাহেববাজার এলাকায় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন করেন প্রশাসক। এ সময় তিনি সাহেববাজার কাঁচাবাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় থাকা অব্যবহৃত দোকানগুলো ঘুরে দেখেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মার্কেটের অব্যবহৃত দোকানগুলোর বিষয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সাহেববাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মার্কেটটি নতুন করে নির্মাণ কিংবা আধুনিকায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন ও নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন খোকন এবং উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় চন্দ্রিমা থানা বিএনপির সদস্যসচিব মনিরুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মুঈদুর রহমান মুঈদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন বিপ্লব, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবার আলী জ্যাকি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সৌরভ, ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ শান্ত, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।