উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হলো ভূমিমন্ত্রী মিনুকে
অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে তাঁর চিকিৎসা চলবে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁকে বিমানবন্দরে নিয়ে যান পবা-মোহনপুর আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন। এ সময় তিনি ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান।
শফিকুল হক মিলন বলেন, সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন ভূমিমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে দেওয়া ওষুধ ব্যবহারে সম্ভবত কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। এ কারণে গত কয়েক দিন ধরে তাঁকে রক্ত দিতে হচ্ছিল। রাজশাহীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সময় অসুস্থতা সত্ত্বেও ভূমিমন্ত্রীকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। এতে তাঁর শারীরিক পরিশ্রম হয়েছে। ভূমিমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে শফিকুল হক মিলন দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক ডিকেন জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী থেকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভূমিমন্ত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কেবিনে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। রক্তশূন্যতার কারণে তাঁকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় ভূমিমন্ত্রী নিজের সুস্থতার জন্য রাজশাহীবাসীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত পিজি হাসপাতাল ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে ইনস্টিটিউট অব পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (আইপিজিএমআর) হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) নাম দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) করা হয়। হাসপাতালটিতে জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসকদের উচ্চতর শিক্ষা ও চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা পরিচালিত হয়।