রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
08 Nov, 2026

৫ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩২ অপরাহ্ন
৫ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

 ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি, রামেকের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব এবং দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে তাঁদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের হাতে হামলা, দুর্ব্যবহার ও সংঘবদ্ধ হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের সময় রোগীর স্বজনদের কক্ষে সিভিল পোশাকে প্রবেশের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ও জরুরি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। সীমিত জনবল ও অপ্রতুল চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের। এ পরিস্থিতিতে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ভর্তি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রোগীর সঙ্গে দুজনের বেশি স্বজনকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে না দেওয়া, ওয়ার্ডগুলোতে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে চিকিৎসাসেবা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, “আমরা সবাই এ বিষয়ে বৈঠকে আছি। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করা হবে। আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।”

অন্যদিকে, ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মবিরতির বিষয়ে বিস্তারিত পরিস্থিতি ও পরবর্তী কর্মসূচি তুলে ধরা হবে।