রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
06 Nov, 2026

জাল টাকায় স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ, রাজশাহীর ঘটনায় ঢাকায় গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৩ অপরাহ্ন
জাল টাকায় স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ, রাজশাহীর ঘটনায় ঢাকায় গ্রেফতার ২

 সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয়ে জুয়েলারি দোকানে গিয়ে স্বর্ণের গয়না কেনার কথা বলে আস্থা অর্জন। এরপর এক লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণের চেইন নিয়ে মূল্য পরিশোধের নামে দেওয়া হয় জাল নোট। রাজশাহীর সাহেববাজারে এ কৌশলে স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর পাশাপাশি বগুড়ায় একই কৌশলে আত্মসাৎ করা আরও একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. রিয়াজুল ইসলাম ও মো. রোমান। রিয়াজুল ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি ঢাকার খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। রোমান কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লড়িবাগ গ্রামের আলফু মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার খিলক্ষেতের জামতলা মোড় এলাকার মা জুয়েলার্সের মালিক।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার আশা জুয়েলারি স্টোরে যান এক ব্যক্তি। নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে তিনি তাঁর মেজর স্যারের মেয়ের বিয়ের জন্য স্বর্ণের গয়না কেনার কথা বলেন। ওই দিন ৭০০ টাকায় একটি নাকফুল কেনার পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরে টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

এর তিন দিন পর, ২৭ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি আবার দোকানে যান। দোকানে চেইন না থাকায় পাশের বিশ্বনাথের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটির তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় তিনি এক হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাইয়ের জন্য পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। পরে দোকানে ফিরে তিনি ওই ব্যক্তিকে আর পাননি। এভাবে জাল নোট দিয়ে চেইনটি আত্মসাৎ করা হয়।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় ঘটনার পর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও আরএমপির সিসিটিভি দল ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত ও তাঁর অবস্থান নির্ণয়ে কাজ শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকা থেকে রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ অভিযানে ঢাকার উত্তরা এলাকার এসআরবি-১ সহযোগিতা করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজশাহী থেকে আত্মসাৎ করা চেইনটি তিনি জামতলা মোড় এলাকার মা জুয়েলার্সের মালিক রোমানের কাছে বিক্রি করেন। পরে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে রোমানকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর আশা জুয়েলারি স্টোর থেকে আত্মসাৎ করা চেইনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত তামান্না জুয়েলার্স থেকেও একটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেন রিয়াজুল। এক লাখ ২২ হাজার টাকা মূল্যমানের জাল নোট দিয়ে নেওয়া চেইনটির ওজন ছিল আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া রিয়াজুলের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজুল একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ঢাকার খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।