রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
জাতীয়
04 Nov, 2026
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির প্রভাব রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়বে না

অনলাইন ডেস্ক : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৩ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৩ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির প্রভাব রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়বে না

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তির কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন পারমাণবিক চুক্তির কোনো প্রভাব পড়বে কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি না পড়বে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ মাত্র পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কি না, সে বিষয়টিও এখনই বন্ধ করে দেওয়ার মতো নয় বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু কেন্দ্র নির্মাণ নয়, জ্বালানি সরবরাহ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণসহ অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সহযোগিতা হতে পারে।

তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার সংকট ছিল, সমস্যা ছিল। কিন্তু আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং করেছেন।

বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার স্বার্থে যেখানে যেখানে প্রয়োজন, চায়নার সঙ্গে, ইন্ডিয়ার সঙ্গে, রাশিয়ার সঙ্গে, টার্কির সঙ্গে, যার যার সঙ্গে প্রয়োজন তার সঙ্গে সম্পৃক্ততা করবে। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে বলে আমি আসলে মনে করি না।

এদিকে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

এ সময় উপদেষ্টা জানান, ইউরেনিয়াম আসবে এবং এতে দেরি হবে না এমন তথ্য তিনি জানেন। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার না করে অন্য কোনো পথে ইউরেনিয়াম আসবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত না। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কিছু বলার নেই।

এয়ারবাস কেনায় কোনো চাপ বা শর্ত মানবে না বাংলাদেশ

এয়ারবাস বা বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে কোনো দেশের চাপ বা শর্ত মেনে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ এয়ারবাস না কিনলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের রপ্তানি এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে ইউরোপের সহযোগিতায় প্রভাব পড়তে পারে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের বিষয়ে এবং বাংলাদেশ বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসও কিনছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ফরাসি রাষ্ট্রদূত ঠিক এই ভাষায় কথাটি বলেছেন বলে তিনি মনে করেন না। তবে কূটনৈতিক ভাষায় কিছু কথা বলা হয়েছে, যা তিনি দেখেছেন।

তিনি বলেন, কারও কোনো রকম কোনো চাপ বা কোনো শর্ত এটার জন্য কোনো কিছু করবে না। নিশ্চিত থাকতে পারি আমরা।

বোয়িং কিংবা এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজনের ভিত্তিতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, উড়োজাহাজের বহরে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, এয়ারবাস কেনা হলে সেটি কোনো বিদেশি চাপের কারণে নয়, বরং বাংলাদেশের প্রয়োজনেই কেনা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের শর্ত হিসেবে নেওয়া হবে না। দেশের প্রয়োজন, উড়োজাহাজ বহরের বৈচিত্র্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।