রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
04 Nov, 2026

পৃথিবীতে আজ দিন-রাত প্রায় সমান, জানুন এর কারণ

অনলাইন ডেস্ক : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৯ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
অনলাইন ডেস্ক : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৯ অপরাহ্ন
পৃথিবীতে আজ দিন-রাত প্রায় সমান, জানুন এর কারণ
ছবি সংগৃহীত

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। বছরের অন্য দিনের তুলনায় দিনটি কিছুটা আলাদা। কারণ আজ সেপ্টেম্বর বিষুব বা ইকুইনক্স। এ সময় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে আসে। পৃথিবীর কক্ষপথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মুহূর্ত।

ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর বিষুব ঘটছে আজ সকাল ৬টা ৫ মিনিটে। তবে ‘দিন-রাত সমান’ বলতে ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত বোঝায় না। ঢাকায় আজ সূর্যোদয় প্রায় সকাল ৫টা ৪৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত প্রায় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে। ফলে দিনের আলো থাকবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।

বিষুব কী?

বিষুব হলো বছরের এমন একটি সময়, যখন পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের আলো প্রায় সমানভাবে পায়। এ সময় সূর্যের আলো বিষুবরেখার ওপর প্রায় সরাসরি পড়ে। ফলে দুই গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য অনেকটাই কমে আসে।

বছরে সাধারণত দুটি বিষুব হয়—একটি মার্চে এবং অন্যটি সেপ্টেম্বরে। মার্চের বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে বসন্ত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎ শুরু হয়। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে শরৎ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্ত শুরু হয়।

কেন দিন-রাত প্রায় সমান হয়?

এর পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর পরিক্রমণ। পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে আছে। এ কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর একেক গোলার্ধ সূর্যের দিকে কম-বেশি ঝুঁকে থাকে।

কখনো উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে, আবার কখনো দক্ষিণ গোলার্ধ। কিন্তু বিষুবের সময় পৃথিবীর অবস্থান এমন হয় যে সূর্যের আলো বিষুবরেখার ওপর প্রায় সরাসরি পড়ে। ফলে দুই গোলার্ধে আলো পাওয়ার সময়ের পার্থক্য কমে আসে।

ঠিক ১২ ঘণ্টা দিন-রাত হয় না কেন?

বিষুবের অর্থের সঙ্গে ‘সমান রাত’-এর ধারণা জড়িত থাকলেও বাস্তবে দিন ও রাত ঠিক ১২ ঘণ্টা করে হয় না। এর অন্যতম কারণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত নির্ধারণের পদ্ধতি।

সূর্যোদয়ের সময় সূর্যের পুরো চাকতি নয়, এর ওপরের প্রান্ত দিগন্তে ওঠার মুহূর্তকে ধরা হয়। একইভাবে সূর্যাস্তের সময় সূর্যের ওপরের প্রান্ত দিগন্তের নিচে চলে যাওয়াকে বিবেচনা করা হয়।

এর সঙ্গে রয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রভাব। বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে কিছুটা বাঁকিয়ে দেয়। ফলে সূর্য প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় কিছুটা আগে উদিত এবং কিছুটা পরে অস্ত গেছে বলে মনে হয়। এ কারণে বিষুবের দিনেও অনেক স্থানে দিনের আলো ১২ ঘণ্টার চেয়ে সামান্য বেশি থাকে। 

আজকের পর কী পরিবর্তন হবে?

সেপ্টেম্বর বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে কমতে এবং রাত দীর্ঘ হতে শুরু করবে। ফলে বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে সামনে সূর্যের আলো পাওয়ার সময় প্রতিদিন কিছুটা করে কমবে।

ঢাকার হিসাবে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড। পরদিন তা কমে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ডে দাঁড়াবে। এরপরও দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

বছরে দুইবার আসে এই মুহূর্ত

পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় তার অক্ষের হেলানো অবস্থান বজায় রাখে। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো একেক গোলার্ধে বেশি পড়ে। মার্চ ও সেপ্টেম্বরের বিষুবের সময় দুই গোলার্ধে আলো পাওয়ার পার্থক্য সবচেয়ে কমে আসে। তাই বিষুব শুধু দিন-রাতের দৈর্ঘ্যের হিসাব নয়; পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেও এটি সরাসরি সম্পর্কিত।

আজ আকাশের দিকে তাকালে হয়তো বিশেষ কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যখন সূর্যের আলো উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে প্রায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর পর থেকেই উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে ছোট হতে শুরু করবে দিনের দৈর্ঘ্য। সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট, নাসা