রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক
05 Nov, 2026

নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন মমতার, তারপরেই গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৯ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৯ অপরাহ্ন
নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন মমতার, তারপরেই গ্রেফতার
ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা ব্যানার্জী শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এরপর আসনটিতে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন মমতা। তবে এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোনো একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের একদিন আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন মমতার

নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জী শিবিরের প্রার্থী ছিলেন সঞ্চিতা প্রধান দে। তিনি মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন। তবে গত শুক্রবার তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা ঘোষণা দেন, নন্দীগ্রামে তার শিবির কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে।

মমতা বলেন, উপনির্বাচনের জন্য তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতেই কংগ্রেসকে সমর্থন করা হচ্ছে। কংগ্রেসকে তিনি ‘সিস্টার পার্টি’ বলেও উল্লেখ করেন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরোনো নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মমতার শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হচ্ছে।

মমতার সমর্থনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি পুরোনো হত্যা মামলার সূত্রে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওই সময়ের একাধিক মামলা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রেয়াপাড়া-সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন মিলন প্রধান। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, মমতা ব্রানার্জীর সমর্থনের পরেই প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ কংগ্রেসের

মিলন প্রধানের গ্রেফতারের পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের ঠিক আগে প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দাবি, মিলন প্রধান শুক্রবার সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। পরে তাকে একটি হোটেল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও গ্রেফতারের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, এই ঘটনা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের অভিযোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলকে কটাক্ষ করে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, কে কাকে সাহায্য করবে, এখন সিপিএম স্লোগান টিএমসির হয়ে গেছে, যাচ্ছে কারা সর্বহারা-আসছে কারা সর্বহারা। বাস্তবে সর্বহারা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস তো আগেই ছিল সর্বহারা।