রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
05 Nov, 2026

“ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিক সহযোগিতা চায় রাসিক"

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
“ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিক সহযোগিতা চায় রাসিক"
ছবি সংগৃহীত

 ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। রাসিক আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, কন্টেইনারসহ যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার বা অপসারণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসাসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব জায়গায় পানি জমতে না দিলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।”

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে কাজ করা হচ্ছে। মহানগরীকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে দুই লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি গাছের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাসাবাড়িতে সপ্তাহে একদিন এবং প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুইদিন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। এডিস মশার বিস্তার রোধে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, কন্টেইনারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এসব স্থান প্রতি তিন দিন পরপর পরীক্ষা ও পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় বেশি ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাবে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। দিনে বা রাতে যেকোনো সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড়ে সংক্রমণ হতে পারে। তাই দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি ডেঙ্গুর লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা এবং বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের কীটতত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মোঃ আব্দুল বারী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাসিকের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সিটি কর্পোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু।

রাসিকের সচিব মোঃ সোহেল রানার সঞ্চালনায় সভায় রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরবৃন্দ, আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, রামেকের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, রাসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।