রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
08 Nov, 2026

রাজশাহীতে মানববন্ধন: গুমের তদন্ত মানবাধিকার কমিশনে দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে মানববন্ধন: গুমের তদন্ত মানবাধিকার কমিশনে দেওয়ার দাবি
ছবি সংগৃহীত

গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে সুরক্ষা এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

রোববার (৩০ আগস্ট) গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর অলোকার মোড় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, গুমের ঘটনায় কোন বাহিনী জড়িত ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। তাই কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুমের অভিযোগের তদন্ত থাকলে এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের স্বার্থে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।

মানববন্ধনে অধিকার’র পক্ষ থেকে সংগঠনটির বিবৃতি পাঠ করেন গুম থেকে ফিরে আসা আল আমিন হোসেন। বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বীসহ সাধারণ নাগরিকদের গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার বিষয়ে বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনে অভিযুক্ত কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজে তদন্ত করতে না পারলেও সরকার অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার দিতে পারবে। অধিকার’র মতে, এ ব্যবস্থাতেও তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এছাড়া অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দায়ের থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা; এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে তাঁদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা করা; এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা। একই সঙ্গে নির্যাতন, মিথ্যা সাক্ষ্য বা জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হওয়া মামলা ও সাজা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।

অধিকার’র রাজশাহী সমন্বয়ক মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরইউজের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, আরআরইউ'র সহসভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, রিপোর্টার্স অব অনলাইন এণ্ড মাল্টিমিডিয়া অর্গানাইজেশনের রাজশাহীর আহবায়ক মো: হুজাইফাসহ অধিকারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।