রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
06 Nov, 2026

রাজশাহীতে বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাসুয়ার কোপে চাচা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাসুয়ার কোপে চাচা নিহত
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহীর পবা উপজেলায় বাবা-ছেলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হাসুয়ার কোপে মো. ইদ্রিস আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই আবু বকর সিদ্দিক ও ভাতিজা মো. আলফাজ (৩৫) আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের দাঁদপুর বাগিচাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রিস আলী ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে একটি জমিতে ধান ও পাট নিয়ে কাজ করছিলেন আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর ছেলে আলফাজ। এ সময় আলফাজ তাঁর বাবার সামনে বিড়ি ধরালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলেকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার ও মেরাজ তাঁদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর আবারও বাবা-ছেলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস আলী তাঁদের থামাতে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তখন আলফাজের হাতে থাকা হাসুয়ার আঘাতে তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ও চাচা ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার বলেন, ‘আমি তাঁদের ঝগড়া থামিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেছিলাম। পরে আবার মারামারি শুরু হলে ইদ্রিস চাচা তাঁদের থামাতে এগিয়ে যান। তখনই হাসুয়ার আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে যান।’

স্থানীয়রা আহত ইদ্রিস আলী ও আবু বকর সিদ্দিককে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আলফাজ গত রোববার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বাড়ি ফেরেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। বিষয়গুলো পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হাসুয়ার আঘাতে ইদ্রিস আলী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।