রামেক হাসপাতালে অনিয়ম ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বন্ধসহ ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি এবং হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। এ দাবিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতারা বলেন, বৃহত্তর রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা রামেক হাসপাতাল। বিশেষায়িত ও জরুরি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায়ও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের পরিবেশ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং অসাধু চক্রের কারণে রোগী ও স্বজনদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্মারকলিপিতে হাসপাতালের কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরে বলা হয়, কিছু নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চিকিৎসকের অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে সেবা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ড, শৌচাগার ও করিডোরে অপরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত সময়ে ওয়ার্ডে না যাওয়ার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শয্যা সংকট, বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতার ঘাটতি, জরুরি বিভাগে অক্সিজেন ও নেবুলাইজেশনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট এবং দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অচল থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। অচল যন্ত্রপাতি সচলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন ছাত্রদল নেতারা।
স্মারকলিপিতে দালালচক্র ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। নিম্নমানের যানবাহন ব্যবহারের পাশাপাশি বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনতে গেলে বাধা ও অসদাচরণের ঘটনাও ঘটছে। দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনদের প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগও করেন তারা।
সমস্যা সমাধানে ছাত্রদলের নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—রোগীদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন ও আধুনিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল চালু, বহির্বিভাগে অপেক্ষাকক্ষ ও কাউন্টার বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের নিয়মিত ওয়ার্ড রাউন্ড নিশ্চিত করা, হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে শয্যা বাড়ানো, এনআইসিইউ ও সিসিইউর সক্ষমতা সম্প্রসারণ, অচল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি দ্রুত সচল করা, পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন, অনিয়মে জড়িত কর্মচারী বা আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অ্যাম্বুলেন্স সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অ্যাপভিত্তিক অনুমোদিত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালু অথবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের নিয়ম চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে ছাত্রদল।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য শোনেন। তিনি দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিব রায়হান রবিন, সদস্যসচিব ইমাদুল হক লিমন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।