রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
অর্থনীতি
08 Nov, 2026

সোনার বাজার টালমাটাল, দাম বাড়বে নাকি কমবে?

অনলাইন ডেস্ক : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:২০ অপরাহ্ন অর্থনীতি
অনলাইন ডেস্ক : ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:২০ অপরাহ্ন
সোনার বাজার টালমাটাল, দাম বাড়বে নাকি কমবে?
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কিছুটা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৫৬.৫৫ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল।

বাংলাদেশি টাকায় কত?

প্রতি ডলারের দাম প্রায় ১২২ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি গ্রাম প্রায় ১৭ হাজার ১০০ টাকা। ফলে প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় (১১.৬৬৪ গ্রাম) প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা।

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাবে বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে এটি শুধু আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের ভিত্তিতে করা হিসাব। বাংলাদেশে সোনা কিনতে গেলে ডলারের রেট, ভ্যাট, মজুরি বা মেকিং চার্জসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় দোকানে বিক্রির দাম এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

ফেডের সিদ্ধান্তে নজর

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে আসা সোনার দামের জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির জুলাইয়ের বৈঠকের কার্যবিবরণী বুধবার প্রকাশ হওয়ার কথা। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সুদের হার নিয়ে কী ধরনের আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে। সুদের হার কমলে সাধারণত সোনা ধরে রাখার সুযোগ-খরচ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ বাড়ে এবং দামও বাড়তে পারে।

আরও বাড়তে পারে সোনার দাম

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের গবেষণা বিভাগের প্রধান লুকমান ওতুনুগার মতে, সোনার দাম ৪ হাজার ৩৯০ ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে উঠতে পারলে তা ৪ হাজার ৫০৫ ডলারের দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নেমে গেলে ৪ হাজার ২০০ এবং পরে ৪ হাজার ১৫০ ডলারের দিকে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব

সোনার বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে ইরান এর বিপরীত দাবি করেছে। দেশটির বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে তেলের দামও টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সোনা ও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।

রুপা ও অন্যান্য ধাতুর দাম


এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩.০৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২০.১০ ডলারে উঠেছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১ হাজার ২৮৯.৪৫ ডলারে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদের হার, মার্কিন ডলারের অবস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স