রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
07 Nov, 2026

রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২২ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২২ অপরাহ্ন
রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু
রাজশাহীর তাজা মাছ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

 রাজশাহীর তাজা ও জীবিত মাছ কার্গো বিমানে করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। এ জন্য রাজশাহী বিমানবন্দর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত একটি অত্যাধুনিক মৎস্য টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের কথাও জানান তিনি।

রোববার দুপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী রাজশাহী কালেক্টরেট পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহীর জীবিত মাছকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে রাজশাহী থেকে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে সরাসরি মাছ রপ্তানির জন্য কার্গো বিমান চলাচল এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যত দিন যাবে, রাজশাহী তত এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানেও রয়েছে। আগামী দিনে এ খাতে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

রাজশাহীর আশপাশের খাল-বিল ও জলাশয়গুলোকে মাছ চাষের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মিনু বলেন, এসব জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় চাষিরা বিদেশে মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন। এ জন্য দেশীয় পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে মাছ চাষে এগিয়ে আসতে তিনি চাষিদের আহ্বান জানান।

মৎস্য ও পানিসম্পদকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে পৃথিবীতে যুদ্ধের ধরন বদলে যাবে। তখন জমি বা ভূখণ্ডের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সুপেয় পানি। ‘সুইট ওয়াটার’ বা মিষ্টি পানির গুরুত্ব দিন দিন বাড়বে। বাংলাদেশের পানিসম্পদ এ ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হবে। আগামী দিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ বিশ্বে আরও এগিয়ে যাবে। মৎস্য খাতও এর মধ্যে অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খাত।

মাছের গুণগত মান ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মিনু বলেন, মাছের খাদ্য বা ফিডের মান বজায় রাখতে হবে। অসাধু উপায়ে তৈরি কিংবা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর উপাদানে তৈরি ফিশ ফিড ব্যবহার থেকে মৎস্য চাষিদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে চিংড়ির মতো মূল্যবান মৎস্যসম্পদ যাতে বিদেশের বাজারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা বাড়াতে হলে উৎপাদনের পাশাপাশি গুণগত মান, নিরাপত্তা ও পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রাজশাহীতে দ্রুত একটি অত্যাধুনিক মৎস্য টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন ও রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, রাজশাহীর উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।