রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
07 Nov, 2026

গ্যাস নেই, রুয়েটের হলে রান্না বন্ধ, বাইরে খাবার খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৬ অপরাহ্ন
গ্যাস নেই, রুয়েটের হলে রান্না বন্ধ, বাইরে খাবার খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের
গ্যাস নেই, রুয়েটের হলে রান্না বন্ধ, বাইরে খাবার খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের

 গ্যাসের সংকটে রান্না বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে। এতে পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর দুপুর ও রাতের মিল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে হলের বাইরে খাবার খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও জীবনযাত্রায়ও ব্যাঘাত ঘটছে।

শুধু জিয়াউর রহমান হলই নয়, গ্যাসনির্ভর অন্য আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এসব হলের রান্না ও মিল সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো হলে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে খড়ি বা লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব হলে আপাতত বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে ডাইনিং চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সব হলে এমন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট হলে খাবার সরবরাহ নিয়ে জটিলতা বাড়তে পারে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর বলেন, “কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। হঠাৎ ডাইনিংয়ে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি। নিয়মিত ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ায় এখন বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও টাকা খরচ হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে ডাইনিং চালু করা অথবা গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আগের মতো মিল চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকটের বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। চট্টগ্রামের এলপিজি টার্মিনাল-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “এটি কেন্দ্রীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের খাবারের সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

রুয়েটের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, যেসব হলে বিকল্প জ্বালানিতে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে ডাইনিং চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যেসব হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে বাইরে চুলা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের সাময়িক সংকট জাতীয় পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের মহেশখালী গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আবাসিক ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কমেছে।

রুয়েটের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বলছেন, গ্যাস সংকট শুধু রান্নার সমস্যা নয়; এর প্রভাব সরাসরি তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও পড়াশোনায় পড়ছে। বিশেষ করে হলের ডাইনিং বন্ধ থাকলে বাইরে খাবার সংগ্রহ করতে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয়। একই সঙ্গে খাবারের খরচও বেড়ে যায়।

প্রশাসন জানিয়েছে, গ্যাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংকট দ্রুত না কাটলে শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প জ্বালানি ও অস্থায়ী রান্নার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।