কোনো শিক্ষার্থী যেন মাদকাসক্ত না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু
ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন মাদকাসক্ত হয়ে না পড়ে, সেদিকে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে। শুধু সরকার বা একজন ব্যক্তির পক্ষে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; এ জন্য গোটা জাতির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন শিক্ষকরা।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অডিটোরিয়ামে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে কাজ করতে হবে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও মাদকের ফাঁদে পড়ে। কোনো শিক্ষার্থী আসক্ত হয়েছে জানতে পারলে তাকে ঘৃণা না করে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে কাউন্সেলিং করতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবকদের সঙ্গে বসে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আইনের হাতে তুলে দিলে অনেক সময় তারা আরো বিপথে চলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আশা করি, এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নবনির্বাচিত ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ছাত্রকল্যাণ পরিষদের দায়িত্ব ক্ষমতার প্রতীক নয়, এটি একটি দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে লোভ-লালসা পরিহার করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের সফলতা কামনা করেন তিনি।
রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ প্রতিষ্ঠান শুধু রাজশাহী বা বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সুনাম অর্জন করেছে। এখান থেকে অসংখ্য গুণী শিক্ষাবিদ তৈরি হয়েছেন। দেশের শিক্ষা ও সমাজ গঠনে এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারাই এই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের আচরণ, মূল্যবোধ ও শিক্ষাদান অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যে চিন্তা ও আদর্শ ধারণ করে, তা পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সরকার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। কলেজের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন দুটি ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি।