রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
31 Oct, 2026

টানা বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে বেড়েছে মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রি

জিল্লুর রহমান জয়: ০৭ জুলাই ২০২৬ ০১:২৭ অপরাহ্ন রাজশাহী
জিল্লুর রহমান জয়: ০৭ জুলাই ২০২৬ ০১:২৭ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে বেড়েছে মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রি
ছবি সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের কয়েক জেলায় খাল-বিল, জলাশয় ও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। নতুন পানিতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মাছ ধরার সরঞ্জামের বিক্রি উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। এতে যেমন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, তেমনি দেশীয় মাছ ধরার উপকরণ তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগর ও গ্রামীণ নারীরাও বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিকে বর্ষা শুরুর আগেই অব্যাহত বৃষ্টিতে খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি জমতে শুরু করেছে। নতুন পানির টানে বিভিন্ন নদ-নদী, পুকুর ও ডোবা থেকে দেশীয় মাছ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের জলাভূমিতে। এ সুযোগে পেশাদার জেলের পাশাপাশি সৌখিন মাছ শিকারিরাও মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ঝাঁকি জাল, টানা জাল, ঠেলা জাল, পলো, বড়শি, বাইড়, মুছনা ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদের চাহিদা বেড়েছে।


রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত  ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও জলাশয়ে পানির পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে।

গত তিন দিন রাজশাহী বিবাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ধরার দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে বসেছেন কারিগররা। আকার ও ধরনভেদে ১শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে এসব উপকরণ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের উপস্থিতিতে বাজারগুলো বেশ প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে।

বাগমারার ভবানীগঞ্জ হাটে সরঞ্জাম কিনতে আসা নাজমুল বলেন, ‘গ্রামের চারপাশের জমি ও ডোবায় পানি বাড়ছে। সেখানে বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ দেখা যাচ্ছে। মাছ ধরা আমার শখ। তাই বর্ষার শুরুতেই একটি পলো কিনতে এসেছি।’

ভবানীগঞ্জ হাটের মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রেতা মজিদ জানান, ‘টানা বৃষ্টির কারণে খাল-বিলে পানি বেড়েছে। ফলে সরঞ্জামের বিক্রিও বেড়েছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। এতে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। হাটের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বেশি হয়।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশীয় মাছের উপস্থিতিও বেড়েছে। স্থানীয় জেলে ও সৌখিন মাছ শিকারিরা মাছ ধরছেন। তবে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে কেউ মাছের প্রজনন ও বংশ বিস্তার ব্যাহত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

টানা বৃষ্টিতে মাছের প্রাচুর্যের সম্ভাবনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি দেশীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন গতি এসেছে। ফলে বর্ষার আগমনী বৃষ্টিই এখন রাজশাহী বিভাগের অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।