রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
01 Nov, 2026

বাঘা পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ, অস্বীকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৪ জুন ২০২৬ ০৯:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৪ জুন ২০২৬ ০৯:০২ অপরাহ্ন
বাঘা পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ, অস্বীকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার
ছবি সংগৃহীত

 রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন এক ঠিকাদার। বিল পরিশোধ ও চলমান উন্নয়নকাজে বাধা না দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে কয়েক দফায় মোট ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার মো. রবিউল ইসলাম। তবে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।

সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ এনে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন ঠিকাদার রবিউল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এ অভিযোগপত্র দেন। ঠিকাদার রবিউল ইসলাম বাঘা উপজেলার দক্ষিণ মিলিক বাঘা এলাকার বাসিন্দা।

লিখিত বক্তব্যে রবিউল ইসলাম দাবি করেন, বাঘা পৌরসভার কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি উন্নয়নকাজ ছয় মাস আগে সম্পন্ন করেন তিনি। তবে কাজ শেষ হওয়ার পরও গত পাঁচ মাস ধরে বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়নি। বিল ছাড়ের জন্য পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রবিউল। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিল আটকে রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকার একটি সড়ক উন্নয়নকাজ তাঁর স্ত্রী নিশাত জাহানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন’ লটারির মাধ্যমে পায়। গত ১৮ মে প্রকল্পটির উদ্বোধনের পর কাজ শুরু হয়।

রবিউলের অভিযোগ, গত ৩ জুন কাজ পরিদর্শনের সময় প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম রাস্তার গাঁথুনির মান নিয়ে আপত্তি তুলে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন বিলের বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে আগের ৩ লাখ টাকার সঙ্গে নতুন করে ১ লাখ টাকা যোগ করে মোট ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তাঁর ফাইল ছুড়ে ফেলা এবং মারধরের উদ্দেশ্যে চেয়ার তোলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। সংশ্লিষ্ট এডিপি প্রকল্পের কাজে গুণগতমানের কিছু ত্রুটি পাওয়া যায়। কাজের মান উন্নত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলে ঠিকাদার রবিউল ইসলাম আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ঘুষ দাবির কোনো প্রশ্নই আসে না।”

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাম্মী আক্তার বলেন, “বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঠিকাদার মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।