প্রধানমন্ত্রীর সিগনেচার প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রীর সিগনেচার প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে গৃহীত বিশেষ প্রকল্পগুলো যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার (১ জুন) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সিগনেচার প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ড. এস এম আব্দুল আওয়াল জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি রাজশাহীতে বাস্তবায়নাধীন সিগনেচার প্রকল্পগুলোর বিশেষ মনিটরিং করতে এসেছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, তরুণদের কর্মসংস্থান, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভাতা প্রদান, ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা, সমবায় পুনরুজ্জীবন, ই-কমার্স আঞ্চলিক হাব স্থাপন, উত্তরাঞ্চলে কৃষি রফতানি অঞ্চল গড়ে তোলা, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যখাত উন্নয়ন, এন্টারপ্রেনারশিপ-স্টার্টআপ প্রকল্প এবং কৃষি উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রত্যয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের অধিকার সমুন্নত রাখতে এসব প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরী। খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভাতা প্রদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের জটিলতা যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
এসময় তিনি রাজশাহী বিভাগের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর উন্নয়ন তৃণমূল জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, এটি শুধু একটি কার্ড নয়; এর মাধ্যমে একটি পরিবারকে দুই হাজার পাঁচশ টাকা সহায়তা দেওয়া হলে তাদের সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ে, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। এর ফলে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রতিটি সিগনেচার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এছাড়া সভায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।