রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজশাহী
03 Nov, 2026

মধু মাসের প্রথম দিনেই রাজশাহীতে শুরু রসালো আম নামানোর উৎসব

নার্গিস সুলতানা : ১৫ মে ২০২৬ ০৮:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী
নার্গিস সুলতানা : ১৫ মে ২০২৬ ০৮:৩০ অপরাহ্ন
মধু মাসের প্রথম দিনেই রাজশাহীতে শুরু রসালো আম নামানোর উৎসব
ছবি সংগৃহীত

মধু মাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনেই রাজশাহীতে শুরু হয়েছে রসালো আম নামানোর উৎসব। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকে গাছ থেকে ‘গুটি’ জাতের আম পাড়ার মধ্য দিয়ে বাজারে নতুন মৌসুমের আম আসতে শুরু করেছে। এতে চাঙা হয়ে উঠেছে জেলার আমবাগান ও স্থানীয় হাট-বাজার।

নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী আম নামাতে পেরে খুশি আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর আমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এখন বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া গেলে চাষীদের মুখে হাসি ফুটবে। অনেক বাগান মালিক ইতোমধ্যে পাইকারদের সঙ্গে আগাম বেচাকেনাও শুরু করেছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গুটি আম ১৫ মে থেকে নামানো শুরু হয়েছে। গোপালভোগ নামানো হবে ২২ মে, লক্ষ্মণভোগ (লখনা) ও রাণী পছন্দ ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে এবং জনপ্রিয় ল্যাংড়া আম নামবে ১০ জুন থেকে। এছাড়া আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন, আশ্বিনা ও বারি-৪ জাতের আম ৫ জুলাই, গৌড়মতি ১৫ জুলাই এবং ইলামতি ২০ আগস্ট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

জেলা প্রশাসন আরো জানিয়েছে, ‘কাটিমন’ ও ‘বারি-১১’ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে। অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন। এই বিপুল পরিমাণ আমের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমের উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই ভালো হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর তদারকির কারণে ভোক্তারা রাসায়নিকমুক্ত, নিরাপদ ও পরিপক্ব আম পাবেন বলেও সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

রাজশাহীর আমকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই আমের বাজার প্রাণ ফিরে পাওয়ায় খুশি চাষী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

ভোর থেকে বিভিন্ন আমবাগানে শ্রমিকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। একই সঙ্গে নগরীর সাহেববাজার, বানেশ্বর ও অন্যান্য মোকামে জমে উঠেছে আমের পাইকারি বাজার।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, হিমসাগর ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আমের উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী বাগান মালিকরা। কৃষি বিভাগ বলছে, এবার রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে দেশজুড়ে রাজশাহীর আমের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশেও রফতানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে রাজশাহীর আম দেশের অর্থনীতিতে আরো বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।