রাজশাহী মহানগরীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়নে নতুন গতি, নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর স্থবির হয়ে থাকা রাজশাহী মহানগরীর নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফিরেছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব পান তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক নেতা ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেন। এতে নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
গত ১৪ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে রাসিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগর ভবনে দাফতরিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় করে তোলা হয়। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নগর ভবনে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা উন্নয়ন কাজেও এসেছে গতি। প্রশাসক নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেন পরিষ্কার, রাস্তা সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হেতেমখাঁ বড় মসজিদ মোড় থেকে বর্ণালী পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রেলক্রসিং ফ্লাইওভার, শালবাগান, ভদ্রা ও নওদাপাড়া কাঁচাবাজার মার্কেট নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও সড়ক মার্কিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক ড্রেন, রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণও চলছে সমানতালে। ফুলতলা এলাকায় ফোরলেন সড়কের কাজেও এসেছে গতি। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। ৩০টি ওয়ার্ডে ফগার স্প্রে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, ড্রেন পরিষ্কার, লার্ভিসাইড স্প্রে ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে ড্রেন পরিষ্কার ও কাদামাটি অপসারণের কাজ চলছে দিন-রাত।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে আধুনিক ও আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তুলতে ওয়াচ টাওয়ার, চিলড্রেন প্লে-জোন, ইভেন্ট টেন্ট ও ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুলজারবাগ লেকে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী সহায়তা সেবা প্রদান করে রাসিক ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসকের নির্দেশনায় নাগরিক ভোগান্তি কমাতে গোরহাঙ্গা রেলক্রসিং ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্ব দিচ্ছে রাসিক প্রশাসন। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়। এছাড়া হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ৪৩৮টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে রাসিক।
সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “রাজশাহী মহানগরীকে আরো সুন্দর, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছি। নগরবাসীর সহযোগিতায় স্বপ্নের নতুন রাজশাহী গড়ে তুলতে চাই।”
হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, বর্তমান প্রশাসকের নেতৃত্বে নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। তার কর্মতৎপরতায় নগরবাসীর মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।