রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনে গ্রেফতার দুজন, একজনকে থানা থেকেই 'অব্যাহতি'
রাজশাহীতে চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে থানা থেকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে রোববার (১০ মে) নগরীর মতিহার থানা এলাকায় মো. তুষার (১৮) নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি নগরীর কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। ওই ঘটনায় তার বাবা নাজির আলী সোমবার (১১ মে) নগরীর মতিহার থানায় একটি মামলা করলে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া এজাহারভুক্ত আসামি দুজন হলেন নগরীর বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হাসান মো. মুজাহিদ।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম এজাহারে থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তাই থানা থেকেই তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া অন্য আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার (১২ মে) আদালতে তোলা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মুজাহিদকে ছাড়া প্রসঙ্গে উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘জামিনযোগ্য যে কোনো মামলার আসামিকেই থানা থেকেই অব্যাহতি দিতে পারেন ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বা তদন্তকারী কর্মকর্তা (আই.ও)। আইনে তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। এটি পুলিশের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।’
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার (৯ মে) রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। এ সময় তুষার বাড়ি নেই বলে জানান তার বাবা নাজির আলী। পরে ‘তুষারকে পেলে সবকিছু বোঝানো হবে’ বলে হুশিয়ারি দেন অভিযুক্তরা। এমনকি কোনো ধরনের তদবির না করার কথাও বলে যান তারা। পরদিন সকালে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে আগের দিন খোঁজার কারণ জানতে চান তুষার। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটাতে থাকে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামে।
এদিকে নির্যাতনের পর তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসা শেষে সোমবার হাসপাতাল থেকে তিনি বাড়ি ফেরেন তুষার।