রাজশাহী টিটিসিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অধ্যক্ষ ইমদাদুলের বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজমুল হককে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এস.এম ইমদাদুল হক পুনরায় রাজশাহী টিটিসিতে বদলি হয়ে আসার লক্ষ্যে এবং আরো কিছু কারণে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনি বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজশাহী টিটিসিতে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি করে তাকে বগুড়া টিটিসিতে পাঠানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী টিটিসির একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানেরই কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এসএম ইমদাদুল হককে সহায়তা করছেন। এর মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের একজন ইনস্ট্রাক্টর, হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, স্টোর কিপার ও একজন কারখানা সহকারী রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।তাদের ভাষ্য, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক যদি আবার রাজশাহী টিটিসিতে বদলি হয়ে আসেন, তাহলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের দেখে নেবেন- এমন হুমকিতে রয়েছেন অন্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা। এতে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এমন আশংকাও করছেন তারা।
এদিকে ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ থাকাবস্থায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৫৮৪ টাকা অনিয়মিতভাবে ব্যয় করা হয়। এ নিয়ে অডিট আপত্তি হওয়ায় ইমদাদুল হক রাজশাহী টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট কয়েজনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেন অডিট আপত্তি হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী টিটিসিতে ২০২৫ সালের ৪ মে করা অডিটে দপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা পণ্যগুলোর দরপত্রে দর কম দেখিয়ে মালামাল সংগ্রহ করা হয়।
প্যাকেজ নম্বর GR-06 এর ১১০টি আইটেমের মধ্যে ৬৯টি আইটেমের মূল্য বাজারদরের চেয়ে ২ টাকা করে কম ধরা হয়েছে। বাকি ৪১টি আইটেমের দাম দপ্তরের সঙ্গে হুবহু মিল থাকলেও সন্দেহজনকভাবে সেগুলোও ঠিকাদারের দিক থেকে ‘পূর্ব-জানা দরের’ ইঙ্গিত দেয়। GR-07 নম্বর প্যাকেজের ৩৮টি আইটেমের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রতিটি আইটেমের দাম দাপ্তরিক দরের তুলনায় ২ টাকা করে কম ধরা হয়।
এতে প্রশ্ন উঠেছে, দরদাতাকে সরকারি দপ্তরের বাজারদর আগে থেকেই জানানো হয়েছিল কিনা। কারণ, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর ২০০৮) অনুযায়ী, দপ্তরের প্রাক্কলিত দর টেন্ডার মূল্যায়নের আগে প্রকাশযোগ্য নয়।
অডিট রিপোর্টে উল্লেখিত ৪২ লাখ টাকার বেশি অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বর্তমান অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হকের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই একটি চক্র আমার প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। একজন সাবেক অধ্যক্ষ ও তার অবৈধ সিণ্ডিকেটের সদস্যরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টিটিসিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ডে আমি নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি আরো বলেন, বিষয়গুলো আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।