শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
অর্থনীতি
16 Apr, 2026

ভোজ্যতেলে সংকট, বোতল ও খোলা তেলে দাম বেড়েছে

WP Import ০৮ মার্চ ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন অর্থনীতি
WP Import ০৮ মার্চ ২০২৬ ০২:৪০ অপরাহ্ন
ভোজ্যতেলে সংকট, বোতল ও খোলা তেলে দাম বেড়েছে
ভোজ্যতেলে সংকট, বোতল ও খোলা তেলে দাম বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতে দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা বোতলজাত তেলে বাড়তি দাম নেয়ার অভিযোগ তুলনছেন। আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, অনেক দোকানে বোতলজাত তেল বিক্রি শেষ হলেও কোম্পানি থেকে সরবরাহ কমানো হয়েছে। এতে ভোজ্যতেলে সংকট তৈরি হয়েছে।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন ভোক্তারা। অন্যদিকে কোম্পানি থেকে সরবরাহ কমানো হয়েছে। এতে অনেক দোকানেই বোতলজাত তেলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, ডিলার থেকে আগে যে কমিশন দেওয়া হতো, এখন সেটি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের মুনাফার পরিমাণও কমছে।

রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, মালিবাগ, মগবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত তেল চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। মুদি দোকানগুলোতে পরিচিত ব্র্যান্ডের স্বল্প পরিমাণ তেল দেখা গেলেও অপরিচিত ব্র্যান্ডগুলো হঠাৎ করে যেন উধাও হয়ে গেছে।

মানিকনগর পুকুরপাড় থেকে তেল কিনতে এসে সবুজ নামের একজন বলেন, আমি এক লিটার তেলে বোতল কিনতে এসেছি। তিনটি দোকানে ঘুরেও পাইনি। এখন খোলা তেল কিনে নিচ্ছি। খোলা তেলেও দাম বাড়ানো হয়েছে। ২০৫ টাকা কেজি রাখা হয়েছে আমার কাছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের গায়ের দাম (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। ডিলারের কাছ থেকে আগে তারা এই তেল ৯৩০ টাকায় কিনতেন, বেচতেন ৯৪০ টাকায়। ১০ টাকা লাভ থাকত। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে তারা ৫ লিটারের বোতল কিনছেন ৯৫০ টাকায়, বিক্রি করেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। তাতে খুচরা বিক্রেতাদের ৫ টাকা লাভ কমেছে। ভোক্তাদেরও আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে খোলা সয়াবিন তেলেও দাম বাড়িয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতদিন যা ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি হতো।বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসখানেক ধরেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। গত তিন–চার দিনে এ সংকট আরও বেড়েছে। একদিকে তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল বাজারে আসছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আতঙ্ক থেকে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। সব মিলিয়ে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তারা উৎপাদন বাড়িয়েছে, বাজারে তেলের সরবরাহে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার গণমাধ্যমে জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তারা বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করেছেন। রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা অতিরিক্ত তেল আমদানি করেছি। মাসে ৫০ হাজার টনের বেশি তেল সরবরাহ হচ্ছে। কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।

সিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সিটি গ্রুপ সরবরাহ কমায়নি। এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। তবে রমজানে বাড়তি চাহিদা এবং কিছু মানুষের মজুদের কারণেও এই সংকট তৈরি হয়ে থাকতে পারে।