রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
জাতীয়
07 Nov, 2026

বরাদ্দ ট্রেন পছন্দ না হওয়ায় রাজশাহীতে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ একাংশের বিক্ষোভ

WP Import ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩২ অপরাহ্ন জাতীয়
WP Import ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩২ অপরাহ্ন
বরাদ্দ ট্রেন পছন্দ না হওয়ায় রাজশাহীতে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ একাংশের বিক্ষোভ
বরাদ্দ ট্রেন পছন্দ না হওয়ায় রাজশাহীতে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ একাংশের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বরাদ্দকৃত বিশেষ ট্রেন পছন্দ হয়নি রাজশাহীতে জুলাইযোদ্ধাদের একাংশের। তাই তারা বিক্ষোভ করেছেন। আবার তাদের কেউ কেউ রেললাইনের ওপরে বসে পড়েন, কেউ শুয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে রাজশাহী থেকে ট্রেন চলাচল প্রায় ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাত্র-জনতার জন্য বনলতা ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো আন্তনগর ট্রেন চাইছিলেন ওই বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু বরাদ্দ করা বিশেষ ট্রেনটি ছিল অন্য ট্রেন। তবে যারা ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন, তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা অন্যদের তোপের মুখে টিকতে না পেরে রেললাইন ছেড়ে দেন। পরে ৩৫ আন্দোলনকারীকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সিল্কসিটি ট্রেনে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯১ টাকা ভাড়া দিয়ে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ট্রেনে ৫৪৮টি আসন রয়েছে। বিভিন্ন স্টেশন থেকে তাদের ওঠার কথা। রাজশাহী থেকে ২০০-২৫০ যাত্রী ওই ট্রেনে ঢাকায় গেছেন।
ট্রেনটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্টেশনে গিয়ে বাংলা ট্রেন দেখে জুলাইযোদ্ধাদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন। তারা আন্তনগর বনলতা ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো ট্রেনের দাবি করেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করন, যে রকম ট্রেন দেওয়া হয়েছে, সেই রকম ভাড়াই তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেন নিতে হলে তাদের আরো বেশি ভাড়া দিতে হতো। কিন্তু তারা বরাদ্দ করা ট্রেনে উঠতে চাননি। তারা ট্রেনের সামনে বসে পড়েন। অনেকেই শুয়ে পড়েন।

তবে বেশির ভাগ জুলাইযোদ্ধা ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। শেষ পর্যন্ত ট্রেনে উঠে পড়া যোদ্ধাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীরা পেরে ওঠেননি। তারা তখন রেললাইন থেকে উঠে পাশের সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে পড়েন। বিশেষ ট্রেনটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। অবশেষে সেটি ৮টা ১৩ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।

এ কারণে সিল্কসিটি ট্রেনটিও নির্ধারিত সময়ে রাজশাহী থেকে ছাড়া সম্ভব হয়নি। এই ট্রেন ৪৫ মিনিট বিলম্বে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যায়।স্টেশন মাস্টার শহীদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, ‘তারা যেমন ভাড়া দিয়েছেন, তাদের জন্য আমাদের কর্তৃপক্ষ সেই রকম ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। এখন তাদের কয়েকজন এসে আন্তনগর বনলতা ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো ট্রেন দাবি করে বসেন।

ফলে ট্রেন ছাড়তে খানিকটা বিলম্ব হয়। যারা বিশেষ ট্রেনে যাননি তাদের ৩৫ জনকে অন্তঃ নগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হয়।পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘সরকার ট্রেনগুলো মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাড়া নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে ট্রেন ভাড়া করা হয়নি। সেটা তাদের বোঝানো হয়েছে।’