রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক
07 Nov, 2026

অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়া কর্নেল সোফিয়াকে রাষ্ট্রপতি পদক দিচ্ছে ভারত

WP Import ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৪৪ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়া কর্নেল সোফিয়াকে রাষ্ট্রপতি পদক দিচ্ছে ভারত
অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়া কর্নেল সোফিয়াকে রাষ্ট্রপতি পদক দিচ্ছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সেনা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন এবং দেশের সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের জন্য এ বার রাষ্ট্রপতির পদক পাচ্ছেন ভারতের সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। বিশিষ্ট সেবা পদক দেওয়া হচ্ছে তাকে।

আজ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে পদক দেওয়া হবে তাকে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। সেই থেকে এই দিনটিকে সাধারণতন্ত্র দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে ভারত।

গত বছর সিদুঁর অভিযানের সময়ে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রতিটি খুঁটিনাটির বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। সিঁদুর অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপ কী ভাবে করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে— তা সাংবাদিক বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন কর্নেল সোফিয়া।

গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মিরের জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে প্রত্যাঘাত করেছিল ভারত। পরে দু’দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ বেধে যায়। অনেকের মতে, দেশের নারীশক্তি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতেই সেনার সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানে প্রত্যাঘাতের বিষয়টি নিয়ে জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কর্নেল সোফিয়াকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহও।

১৯৭৪ সালে গুজরাটের বদোদরায় জন্ম সোফিয়ার। ১৯৯৭ সালে জৈবরসায়ন নিয়ে স্নাতোকত্তর করেন। বর্তমানে ভারতীয় সেনার সামরিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক্স অভিযান সহায়ক শাখা সিগন্যাল কোরের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক সোফিয়া। ৫২ বছর বয়সী এই সেনা কর্মকর্তা ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত।

২০১৬ সালে তিনি প্রথম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। সে বছর ১৮টি দেশের সামনে ভারতের সামরিক মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোফিয়া। প্রথম মহিলা হিসাবে এই কৃতিত্ব তিনি অর্জন করেন। সে সময়ে সোফিয়া ছিলেন লেফ্‌টেন্যান্ট কর্নেল।

পুণের ওই সামরিক মহড়া ছিল ভারতে আয়োজিত সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক মহড়া। ২ থেকে ৮ মার্চের মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাপান, চিন, আমেরিকা, রাশিয়ার মতো দেশ। আর কোনও দেশের মহড়ার নেতৃত্বে মহিলা ছিলেন না।

এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টেও এক মামলার শুনানিতে দৃষ্টান্ত হিসাবে উঠে এসেছিল কর্নেল সোফিয়ার নাম। সেনার স্থায়ী কমিশনে (পার্মানেন্ট কমিশন) মহিলা কর্মকর্তাদের নিয়োগ মামলা যখন সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছিল, সেই সময় আদালত কর্নেল সোফিয়ার প্রসঙ্গ টেনেছিল। কেন স্থায়ী কমিশনে মহিলা অফিসারদের নিয়োগ করা তা নিয়ে শুনানির সময়ে আদালত জানিয়েছিল, কর্নেল সোফিয়া ২০০৬ সালে কঙ্গোয় রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিবাহিনীর সামরিক পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দক্ষতার সঙ্গে কাজও করেন। এ বার সেই কর্নেল সোফিয়াকেই বিশিষ্ট সেবা পদক দেওয়া হচ্ছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের জন্য পদকপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কর্নেল কুরেশি-সহ মোট ১৩৫ জনকে এ বছর বিশিষ্ট সেবা পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০ জনকে পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, চার জনকে উত্তম যুদ্ধ সেবা পদক, ৫৬ জনকে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক, ৯ জনকে যুদ্ধ সেবা পদক, ৪৩ জনকে সেনা পদক, আট জনকে নৌসেনা পদক এবং ১৪ জনকে বায়ুসেনা পদক দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : দ্য হিন্দু