রাকসু নির্বাচন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
এসময় ‘চাঁদাবাজ আর রাজাকার, মিলেমিশে একাকার, জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো, ছাত্রদলের অঙ্গিকার, প্রথম বর্ষের ভোটাধিকার, ছাত্রদলের অঙ্গিকার, নিরাপদ ক্যাম্পাস, ভোট আমার অধিকার, তুমি কে বাদ দেওয়ার, রাকসু ফি দিয়েছি, ভোটার হতে চেয়েছি, ক্যাম্পাসে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, প্রথমবর্ষের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই, নকিব-ফকির কমিশন, মানি না মানবো না’ এমন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো. আর-রাফি খান বলেন, ‘আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দৃঢ়ভাবে জানাতে চাই, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের রাকসুতে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবো।’
ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জান্নাতুন নাঈম তুহিনা বলেন, ‘আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেত্রীরা বারবার সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছি। রোববার আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা চালিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনকে জাস্টিফাই করা হয়েছে। পরবর্তীতে সারারাত আমাদের সাইবার বুলিং করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণে স্পষ্ট বোঝা যায়—তারা নারী নেতৃত্বকে সামনে আসতে দিতে চায় না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করছি’।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘রোববার আমরা রাকসু কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাশকতা ও ছাত্রদলের ওপর হামলা করার উদ্দেশ্যে শিবির, বাগছাস ও সমন্বয়ক নামধারী একটি সংগঠনকে ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে আমাদের উপর হামলা করার জন্য। এ ঘটনায় আমাদের দশজন নেতা-কর্মী হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং নারী শিক্ষার্থীরা নানাভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কেননা এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আর এই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করার ক্ষমতা কারও নেই। আমরা ছাত্রশিবিরসহ সব রাজনৈতিক দলকে বলতে চাই—আমরা তো প্রশাসনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম, তাহলে কেন আপনারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন? আমাদের সহজ দাবি আদায়ের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ইউনিটের শতাধিক নেতাকর্মী।