বাঘায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়। পরে গণপিটুনিতে শিমুল হোসেন নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতকাদিরপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে শিমুল হোসেন (২৮ ও একই গ্রামের নবীন শাহার ছেলে শমজান (৪০) জোতকাদিরপুর স্কুলের পাশে মুনছুর আলীর ছেলে ইয়ার আলীর বাড়িতে রোববার দিবাগত রাত আড়াই দিকে গরু চুরির চেষ্টা করেন। এসময় বাড়ির মালিকের উপস্থিত টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে এলাকার লোকজন ঘিরে তাদের আটক করে খুঁটির সঙ্গে বেধে রাখেন। সোমবার সকালে তাদের দফায় দফায় মারপিট করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিমুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আর শমজান আলীর অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর সালাউদ্দিন আহমেদ লিটন গণমাধ্যমকে বলেন, তারা মাদকাসক্ত। এলাকায় তারা কোনো কাজ করে না। রোববার রাতে তারা গরু চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে গণপিটুনিতে শিমুল হোসেনের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, শিমুল হোসেনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গরুর মালিক ইয়ার আলী বাদি হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে, গরু চুরির অভিযোগের সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়েই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির ঘটনায় একজনের মৃত্যু নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করা হলেও, তার বিচার করার এখতিয়ার কেবল আইনের।