বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজনীতি
25 Aug, 2026

রাজশাহীতে ৮ দলীয় জোটের সমাবেশে নেতারা, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে

WP Import ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৪৩ অপরাহ্ন রাজনীতি
WP Import ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে ৮ দলীয় জোটের সমাবেশে নেতারা, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে
রাজশাহীতে ৮ দলীয় জোটের সমাবেশে নেতারা, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে আট দলীয় জোটের বিশাল সমাবেশে নেতারা বলেছেন, আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা হবে। তারা বলেন, আট দলীয় জোট নতুন জাগরণ তৈরি করেছে। অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। সরকার একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে করেছে বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে রোববার বিকেলে ৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ। অতীতে যারা চাঁদাবাজি করেছে, তাদের আর খাওয়া নেই। আগামীর সংসদ হবে কুরআনের সংসদ। আগামীতে সচিবালয়, সংসদ ও বিচারালয় চলবে কুরআন দিয়ে। সবকিছু চলবে কুরআন দিয়ে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আট দলীয় জোট নতুন জাগরণ তৈরি করেছে। অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। সরকার একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের মনে আশা সঞ্চার হয়েছে নতুন বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে। এবারের সংগ্রাম চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমাদের ৮ দলের বার্তা জাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছে। পরিবর্তনের বার্তা গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের এই ৮ দল আর ৮ দল থাকছে না, আমাদের সাথে আরো অনেক দল আসার আবেদন করছে। সবার প্রত্যাশা একটাই নতুন বাংলাদেশ চাই।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। এখনো সুযোগ আছে, গেজেট পরিবর্তন করুন। জনগণ আগেই গণভোট চায়। এখনো সুযোগ আছে, তারিখ পরিবর্তন করুন। আমরা সরকারকে সংকটে ফেলতে চাই না। তা না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। জনগণ হ্যাঁ ভোট দিতে গিয়ে না তে ভোট দিয়ে দেবে।

তিনি বলেন, একটি দল এখনো ষড়যন্ত্র করছে। গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট হবে। হ্যাঁ ভোট মানে হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সুশাসনের পক্ষে। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্ট করা যাবে না। কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।

এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নারী কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দাও জানান গোলাম পরওয়ার।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের নেতৃত্বে হয়নি। কিন্তু এই সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বলব, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। গণভোট আগে হতে হবে। ষড়যন্ত্র চলছে।

যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। গণভোট আগে দিতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এই দেশ কারও বাবার দেশ নয়, কোনো পরিবারের দেশ নয়। এই দেশ ১৮ কোটি জনগণের দেশ। আমরা ৮ দল অনেকে বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছি। নির্বাচনে ৮ দলের একজন প্রার্থী থাকবে। তাকেই আমরা ভোট দেব।

একটি দলকে চান্দা পার্টি উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ সভাপতি ও দলটির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, আল্লাহ ছাড় দেয় ছেড়ে দেয় না, রাকসু নির্বাচন তার প্রমাণ। তিনবার গণভোট হয়েছে, একবারও নির্বাচনের দিন হয়নি।

নির্বাচনের দিন গণভোটের নজির ইতিহাসে নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, একইদিনে গণভোট ও নির্বাচন চ্যালেঞ্জের বিষয়। যারা আয়োজন করবেন তারা বুঝে গেছেন, কিন্তু বিএনপি বুঝেনি। জনগণ বুঝে গেছে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বুঝেনি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে চিনেছে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের কার্জক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তার গণহত্যার বৈধতা দেওয়া জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি৷ অবিলম্বে ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করুন।

রাশেদ প্রধান আরো বলেন, চান্দা পার্টি পোস্টার ছিড়ছে। তারা ৮ দলের নেতাদের পোস্টার ছিড়তে পারে, কিন্তু মানুষের মন থেকে মুছতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় বুলেট ছুড়ে মারা হচ্ছে। জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষ নিন, ৮ দলের প্রতীকে সিল মারুন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। খুনিদের বিচার করতে হবে। উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, গণভোটে একটি দল না-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আর জনগণ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়ে তাদেরকে না করে দেবে। সিদ্ধান্ত নিন জুলাই সনদের পক্ষ নিয়ে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করুন। ইসলামের বাক্সে সকল ভোট পড়বে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায়। মানুষ জেগে উঠেছে। চাঁদাবাজদের দেখতে চায় না। কার্যকর পার্লামেন্টে পরিণত করব। ঐক্য টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে কেউ যাতে ফাটল ধরাতে না পারে। ইসলামী দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায়। সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ব। দেশের অবস্থা নাজুক। এখনো মিছিলে আন্দোলনে গুলি করে আহত করা হয়, এটা আমরা বরদাশত করব না। জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, তবু আগে গণভোট ও জুলাই সনদ কার্যকর করবো। তাছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে, জুলাই সনদ কার্যকর করে তারপর নির্বাচন দিতে হবে। লড়াই করেছি একদিনের জন্য নয়, ৪৭ সাল থেকে। আবারো লড়াই করে আল্লাহর আইন কুরআনের শাসন অবশ্যই অবশ্যই কায়েম করবো ইনশাআল্লাহ।

রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাকসুর ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।