রাজশাহী টিটিসির সুনাম ক্ষুণ্ণে পরিকল্পিত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর সুনাম ক্ষুণ্ণ, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং চলমান দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাস্তিমূলকভাবে বদলিকৃত সাবেক অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হক এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডলের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ নাজমুল হক সহ সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারী সহকর্মীর সাথে অশালীন আচরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহী টিটিসির তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হককে বগুড়া টিটিসিতে শাস্তিমূলক বদলি করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। পরে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন নাজমুল হক।
তিনি যোগদানের কিছু দিন পর থেকেই টিটিসির সুনাম ক্ষুণ্ণে পরিকল্পিত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। আর এ অপতৎপরতার সাথে শাস্তিমূলকভাবে বদলিকৃত সাবেক অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হক এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডল জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ নাজমুল হক সহ সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নথি ও বিল ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এসএম ইমদাদুল হক তার মনোনীত স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডলকে হিসাব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন। এতে করে পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বর্তমান অধ্যক্ষ নাজমুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব অনিয়ম শনাক্ত করলে আজমে এশরাক মন্ডলকে নওগাঁ টিটিসিতে বদলি করা হয়। এরপর থেকেই দুজনের বিরুদ্ধে যৌথ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী টিটিসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজন তথাকথিত ইউটিউবারকে ব্যবহার করে টিটিসির বর্তমান অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে টিটিসির স্থিতিশীলতা, সুনাম এবং স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এসএম ইমদাদুল হকের ইন্ধনে আজমে এশরাক মন্ডল নাম-বেনামে বর্তমান অধ্যক্ষ, হিসাবরক্ষকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এতে রাজশাহী টিটিসির সুনাম ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তবে তদন্ত চলাকালীন আজমে এশরাক মন্ডল কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবারকে ব্যবহার করে অধ্যক্ষ ও হিসাবরক্ষককে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি রাজশাহী টিটিসিতে কর্মরত থাকাকালীন একাই হিসাবরক্ষক ও স্টোরকিপারের দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে জানা গেছে।সূত্র বলছে, শাস্তিমূলক বদলি হওশা সাবেক অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হককে আবার রাজশাহী টিটিসিতে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম করতেই আজমে এশরাক মন্ডল পরিকল্পিতভাবে বিতর্ক সৃষ্টি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছেন। কারণ তিনি নিজেও রাজশাহী টিটিসিতে আসতে চান। বর্তমানে রাজশাহী রেলওয়ের এফএনসিও দফতরে তার স্ত্রী কর্মরত।
রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক বলেন, “দক্ষতা উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে আমার ও টিটিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি শুধু ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের সুনামের প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত। ফলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।
জানতে চাইলে সাবেক স্টোরকিপার আজমে এশরাক মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য বা অপপ্রচারে জড়িত নন। তার দাবি, রাজশাহী টিটিসিতে কর্মরত থাকাকালে হিসাবরক্ষকের পদ শূন্য ছিল। পরে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই তাকে সাময়িকভাবে হিসাব সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ নাজমুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে নওগাঁ টিটিসিতে বদলি করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী রেলওয়ের এফএনসিও দফতরে তার স্ত্রী কর্মরত। রাজশাহী থেকে নওগাঁ প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে মোবাইলে বদলিকৃত সাবেক অধ্যক্ষ এসএম ইমদাদুল হককে বারবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।