সবুজের ক্যানভাসে লাল রূপে মোহ ছড়ালেন ফারিণ
অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন সেন্সের জন্যও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় তাসনিয়া ফারিণ। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের নানা মুহূর্ত তিনি নিয়মিত শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আর প্রতিবারই তার স্টাইল হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের ঐতিহাসিক হর্টাস বোটানিকাস লাইডেন থেকে প্রকাশ করা নতুন ছবিগুলোও ব্যতিক্রম হয়নি।
ইনস্টাগ্রামে
শেয়ার করা ছবিতে প্রকৃতির সবুজে ঘেরা পরিবেশের মধ্যে নজর কেড়েছেন উজ্জ্বল
স্কারলেট লাল পোশাকে। চারপাশের ট্রপিক্যাল সবুজের বিপরীতে তার এই প্রাণবন্ত
লুক যেন ফুটন্ত জবা ফুলের সৌন্দর্যকেই মনে করিয়ে দেয়।
ছবির
ক্যাপশনেও সেই অনুভূতিরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন ফারিণ। তিনি লিখেছেন, ‘সে যেন
জবা ফুলের মতোই প্রস্ফুটিত হয়েছিল।’ একই ভ্রমণের আরও কিছু ছবি প্রকাশ করে
অভিনেত্রী জানান, জায়গাটি এমন এক শান্ত পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে জীবনের
ব্যস্ততা যেন কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়। তাঁর ভাষায়, সবুজ পাতার আড়ালে
লুকিয়ে থাকা প্রতিটি কোণ যেন নিজস্ব গল্প বলে চলে।
ছবিগুলোতে
সেই প্রশান্তির আবহ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। প্রকৃতির নির্জন সৌন্দর্যের
সঙ্গে ফারিণের স্টাইলিশ উপস্থিতি তৈরি করেছে দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রেম।
এই
ফটোশুটের স্থান হর্টাস বোটানিকাস লাইডেন, যা ১৫৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি
নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে পুরোনো এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বোটানিক্যাল
গার্ডেন। লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যানটি বিরল
অর্কিড, ঔষধি উদ্ভিদ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালা, শতবর্ষী বৃক্ষ এবং ঐতিহাসিক
কাচঘেরা গ্রিনহাউসের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। প্রকৃতিপ্রেমী ও
ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
ফ্যাশনের
দিক থেকে ফারিণের এই লুকের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অফ-শোল্ডার স্কারলেট লাল
ম্যাক্সি ড্রেস। টু-পিস ডিজাইনের পোশাকটিতে নাটকীয় ভলিউমিনাস রাফল নেকলাইন
বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বডিকন ফিটিংয়ের সঙ্গে হাই-স্লিট কাট পুরো লুককে
দিয়েছে আধুনিক ও গ্ল্যামারাস আবেদন। সবুজে মোড়া বাগানের পটভূমিতে এই লাল
পোশাক তৈরি করেছে চোখে পড়ার মতো কনট্রাস্ট।
স্টেটমেন্ট
আউটফিটের সঙ্গে তিনি বেছে নিয়েছেন সংযত অ্যাকসেসরিজ। কানে ছিল টারকোয়েজ
ব্লু ড্রপ ইয়াররিং, যা লাল পোশাকের সঙ্গে সুন্দর রঙের ভারসাম্য তৈরি করেছে।
হাতে দেখা গেছে সোনালি টোনের কাফ ব্রেসলেট ও আংটি, যা লুকটিকে আরও
পরিপূর্ণ করেছে।
চুলে
রাখা হয়েছে রোমান্টিক হাফ-আপ স্টাইল। সামনের অংশ হালকাভাবে পেছনে সেট করা,
আর বাকি চুল নরম ঢেউ খেলানোভাবে কাঁধে ছড়িয়ে ছিল। এতে পুরো উপস্থিতিতে
এসেছে স্বাভাবিক অথচ পরিশীলিত একটি আবহ।
মেকআপেও
ছিল মিনিমাল ছোঁয়া। নিখুঁত বেস, চোখে কাজল ও মাসকারা, সুন্দরভাবে আঁকা
ভ্রু এবং ন্যুড-ব্রাউন লিপস্টিক তাঁর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল
করেছে। অতিরিক্ত গ্ল্যামারের পরিবর্তে সফট ও এলিগ্যান্ট ফিনিশই ছিল এই
লুকের মূল বৈশিষ্ট্য।
বর্তমান
ফ্যাশন ট্রেন্ডে পোশাকের পাশাপাশি লোকেশনও স্টাইলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে
উঠেছে। সেই দিক থেকে নেদারল্যান্ডসের ঐতিহাসিক এই বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং
তাসনিয়া ফারিণের প্রাণবন্ত লাল পোশাক একসঙ্গে তৈরি করেছে নান্দনিক এক
ফ্যাশন মুহূর্ত। প্রকৃতি, ভ্রমণ এবং স্টাইল-এই তিনের অপূর্ব সমন্বয়েই ছবির
পুরো সিরিজটি দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।