হরমুজে অস্ত্র-মার্কিন ঘাঁটির পণ্যবাহী জাহাজে নিষেধাজ্ঞা বিপ্লবী গার্ডের
হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগরে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তারা বলেছে, এখন থেকে অস্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটির জন্য পণ্য নিয়ে আসা কোনো জাহাজ হরমুজে প্রবেশ করতে পারবে না।
শনিবার (২ মে) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। আলজাজিরাকে তেহরানভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র ‘সেন্ট্রার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস’ এর গবেষক আলি আকবার দারেইনি বলেছেন, “নতুন এ নিয়ম জারির অর্থ হলো উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা আঞ্চলিক দেশগুলোই দেবে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থান হবে না।”
তিনি আরও বলেছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা’ কয়েক দশক পুরোনো চুক্তি আছে। কিন্তু ইরান এখন তার আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করছে। তারা চুক্তিটি পুনর্গঠন করতে চায়। এ গবেষকের মতে, আরব ও মার্কিনিদের এ পুরনো চুক্তিতে ইরানকে এতদিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে ইরান এখন এটি পরিবর্তন করতে চায়।
নিজেদের জলদস্যু হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের পর ইরানিদের জাহাজ ছিনতাই করছে তাদের নৌবাহিনী। এরপর এসব জাহাজের কার্গো ও তেল বিক্রি করা হচ্ছে। যা থেকে তাদের লাভও হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডায় একটি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা জাহাজের ওপর নামি এবং জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিই। এরপর কার্গো ও তেল নিয়ে নিই। এটি লাভজনক একটি ব্যবসা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জলদস্যুর মতো। আমরা এক প্রকার জলদস্যুই। কিন্তু আমরা (ইরানিদের সঙ্গে) কোনো খেলা খেলছি না।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এর প্রেক্ষিতে ওইদিনই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান এখনো হরমুজ আটকে রেখেছে।
সূত্র: আলজাজিরা