রাজশাহী চেম্বারের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ২০২৬-২০২৮ দ্বি-বার্ষিক মেয়াদের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে আড়ম্বরপূর্ণ এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাকসুদুল হক রিংকু। শপথ পাঠ শেষে মোনাজাত করা হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, নতুন পর্ষদকে দায়িত্ব পালনে সততা, দক্ষতা ও ব্যবসায়িক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, চেম্বারের ২০২৬ এর এই নির্বাচন অতীতের সকল নির্বাচনের চেয়ে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।নির্বাচিত কমিটিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজশাহীর উন্নয়নের কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
রাজশাহী নগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন কেবল কোনো পদে আসীন হওয়া বা ‘চেয়ার’ পাওয়াই বড় কথা নয়, বরং সেই পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সঠিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করা জরুরি। আর এই কর্মপন্থা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাড়াবাড়ি করে কখনো ভালো কাজ হয় না, বরং যেকোনো টেকসই পরিবর্তনের জন্য ধৈর্য ও সময়ের প্রয়োজন।
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজশাহীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই”। রাজশাহীকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী। সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ী নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল রাজশাহী চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট প্রায় ২ হাজার ৯০০ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন।