সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬
রাজশাহী
27 Apr, 2026
তদন্তের নির্দেশ

রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজের প্রদর্শক হীরা সাময়িক বরখাস্ত

নিজেস্ব প্রতিবেদক : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২০ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজেস্ব প্রতিবেদক : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২০ অপরাহ্ন
রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজের প্রদর্শক হীরা সাময়িক বরখাস্ত
দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক প্রফেসর আসাদুজ্জামান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দ্রুত প্রতিবেদন তলব করেছেন। রোববার দুপুরে দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

পরিচালক জানান, তিনি সরাসরি উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে রোববারই মাউশি থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ইস্যু করা হবে। ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানতে তিনি দাওকান্দি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের উভয়কেই রোববারের মধ্যেই লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রফেসর আসাদুজ্জামান জানান, এসব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরপরই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিভাগীয় কমিশনারের নিকট প্রেরণ করা হবে। এছাড়া, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও একটি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

এদিকে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীরা। এতে তারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে তাদের অপসারণ দাবি করেন।

মানববন্ধনে দাওকান্দি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অপশাসন এবং শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষকরা। আলেয়া খাতুন একজন প্রদর্শক হয়েও শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় অপমান এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অবিলম্বে তার অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষকের বক্তব্য, কলেজের অধ্যক্ষ কয়েকজন শিক্ষকের চলতি মাসের বেতন, ঈদের বোনাস এবং শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামনে ঈদ উপলক্ষে কলেজের প্রায় ১০০টি গরীব পরিবারের কথা চিন্তা করে একজন শিক্ষক এর প্রতিবাদ জানালে, আলেয়া খাতুন হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হন এবং অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। অধ্যক্ষের উপস্থিতিতেই তিনি সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সকল শিক্ষকের সাথে এমন অবমাননাকর আচরণ করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

কলেজে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন শিক্ষকরা। তারা স্পষ্ট জানান, ১৯৭২ সাল থেকে এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং এখানে কোনো ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় কোনো ভালো মানুষের সাথে কয়েকজন স্থানীয় লোকজন একসাথে এলে সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে 'চাঁদাবাজি' আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকরা আলেয়া খাতুন এবং কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাকের দ্রুত অপসারণ দাবি করেন। একইসাথে, আলেয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য ও রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে অপসারণে স্থানীয় বিএনপি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। তবে এ সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ২৪ ঘণ্টার মাথায় আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। 

এরআগে স্থানীয় বিএনপি গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল।