ইশতেহার ঘোষণা : দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বই হবে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি
অনলাইন ডেস্ক : দেশ ও জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে বিএনপি তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি সংক্ষেপে দলের এই নীতির কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের ফরেন পলিসিটা (পররাষ্ট্রনীতি) যদি খুব সংক্ষেপে বলি— সেটি হবে এমন; যেখানে আমার দেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা পাবে। যাদের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা পেলে আমরা দেশে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব এবং অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে পারব, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখা হবে। পাশাপাশি অবশ্যই আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার ভিত্তিতেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করব।
‘বাবা-মার ভরণপোষণ আইন’ কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন করতে চাই
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সামনে প্রশাসনের একটি বিরাট সমস্যা তথা মানবিক সমস্যা আছে; সেটি হলো রোহিঙ্গা সমস্যা। আমাদের নিজের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এই বিশাল জনসংখ্যার কর্মসংস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসার সংস্থান আমাদের করতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ১.২ মিলিয়নের মতো রোহিঙ্গা আছে। তারাও মানুষ, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই আমরা তাদের বিষয়টি দেখব। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা চাইব, তাদের নিজ এলাকায় যেন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে তারা তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাক। অর্থাৎ, আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চাই।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে নদ-নদীর পানি সমস্যার সমাধান চাই
তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আমরা চাই যাদের সঙ্গে আমাদের এই মতভেদ আছে, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে; যাতে আমার দেশের মানুষ তার পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে পারে।
প্রবাসীদের দিকে নজর দিতে হবে
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় (অ্যাক্টিভেট) করার মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী যাতে আরও সুন্দর ও সম্মানজনক সেবা পান, সেই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। আমাদের বিভিন্ন দূতাবাসগুলোকে আরও আধুনিক ও সক্রিয় করার মাধ্যমে এটি করতে হবে।
নির্বাচনী ইশতেহারে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধান
সীমান্ত নিরাপত্তা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গঠন, মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, সফট পাওয়ার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব প্রদান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা।