বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
জাতীয়
08 Sep, 2026

বাবার তিন দশক পর একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেয়ে পুতুল

WP Import ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ন জাতীয়
WP Import ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৩৯ অপরাহ্ন
বাবার তিন দশক পর একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেয়ে পুতুল
বাবার তিন দশক পর একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেয়ে পুতুল

অনলাইন ডেস্ক : ১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট তৎকালীন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ফজলুর রহমান পটল। কালের পরিক্রমায় ৩২ বছর পর সেই একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তার মেয়ে ফারজানা শারমীন পুতুল।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ফারজানা শারমীন। এরপর বুধবার সচিবালয়ে গিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রথম কার্যদিবস অতিবাহিত করেন তিনি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে বসে প্রথম দিনটি ছিল পুতুলের জন্য স্মৃতিবিজড়িত ও আবেগঘন। বাবার চেয়ারে বসে কাজ শুরুর অনুভূতি তিনি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে তার বাবা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছিলেন, আজ তিনিও সেই একই অফিসে। অফিসের পাশের বোর্ডে সাবেক মন্ত্রীদের তালিকায় বাবার নামের দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিবিহ্বল হয়ে পড়েন। তার মনে হয়েছে, বাবা যেন সেখানেই তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফারজানা শারমীন পুতুল। নির্বাচনী প্রচারণায় ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাবার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের জনপ্রিয়তা ফারজানার বিজয়ের পথ সুগম করেছে।

তবে রাজনীতির মাঠে এই বিজয় খুব একটা সহজ ছিল না। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। সব বাধা ডিঙিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ৪১ বছর বয়সী ফারজানা শারমীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ২০১৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।