শুক্রবার, মে ০১, ২০২৬
রাজশাহী
01 May, 2026

মোহনপুরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

নিজেস্ব প্রতিবেদক : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন রাজশাহী
নিজেস্ব প্রতিবেদক : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন
মোহনপুরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি
মোহনপুরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী দিনমজুর। অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এরইমধ্যে কিছু জমি দখল করে নিয়েছেন এবং অবশিষ্টটুকুও দখলের জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রী দুলাল চন্দ্র সরকার (৬১)।

এতে তিনি অভিযোগ করেন, মৃত তাছের উদ্দিন সরকারের চার ছেলে—আশরাফুল ইসলাম, কামরুল হাসান বাবু, আসাদুল ইসলাম ও আবুল বাসার—তার জমির একই খতিয়ানে অংশীদার। তিনি পৈত্রিক সূত্রে ৪ শতাংশ জমির মালিক। বিবাদীরা একই খতিয়ানভুক্ত ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে এখন তার ৪ শতাংশ জমিরও মালিকানা দাবি করছেন। যা অন্যায় ও বেআইনি  বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী দুলাল চন্দ্র সরকার।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল চন্দ্র সরকার দাবি করেন, অভিযুক্তরা তার বাড়ির পাশেই নির্মাণকাজ শুরু করে ধীরে ধীরে তার জমির একটি অংশ দখল করে নিয়েছেন। তার বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও বন্ধ করে দিয়েছে। এতে তিনি ভ্যানগাড়ি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। বিষয়টি বারবার জানিয়ে প্রয়োজনীয় রাস্তা রেখে নির্মাণের অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুলাল চন্দ্র সরকার আরো বলেন, গত ২১ এপ্রিল এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রেজাউল ও শ্রী ভূপেনন্দ্রনাথসহ একাধিক ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, জমিটি মোহনপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া মৌজায় অবস্থিত। যার (জে.এল. নং ৪২, খতিয়ান নং ৩৯০, দাগ নং ১৫৬৫, দলিল নং ৪৭৬৭)। এ বিষয়ে তিনি ২০২৩ সালে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ১১৪৩/২০২৩) করেন। আদালতের রায়ে তার দখলকৃত অংশে প্রতিপক্ষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী। তারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে বিএনপি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় মোহনপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাননি।

মোহনপুরে জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগটি তার দফতরে পৌঁছেছে। বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত হওয়ায় সেটি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তা গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরো বলেন, অভিযোগে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিষয় উঠে আসে, তাহলে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়েদা সুলতানা এবং মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মিজানকে কল করা হলেও তারা তা রিসিভ করেননি। ফলে এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।