সেনেগালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের তথ্য শেয়ার করলেন প্রতিমন্ত্রী
সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন আফ্রিকা’ সম্মেলনের একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্যানেলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নতুন যাত্রার তথ্য তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) সম্মেলনের উচ্চ-পর্যায়ের প্যানেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার উপর ভিত্তি করে একটি বৈষম্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ও অনন্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নারীদের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ-সেনেগাল সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সেনেগালকে পুনরায় ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে দেশ দুটির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গতিশীল ও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। ১৯৮১ সালের মার্চে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নারীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
ডিজিটাল অপতথ্য ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি, বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করতে একটি বৈশ্বিক প্লাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে মানবতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বহুপক্ষীয় কূটনীতির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমানের প্রার্থিতার প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন কামনা করেন তিনি।
ফোরামের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেই এবং পর্তুগালের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনা ইসাবেল জাভিয়ারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করেন।
এছাড়া তিনি ওমান, চাদ ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। সেনেগালের রাষ্ট্রপতি বাসিরু দিয়োমায়ে দিয়াখার ফায়ে দুইদিনের এ ফোরামের উদ্বোধন করেন। এতে আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্যানেল আলোচনার সঞ্চালনা করেন সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেখ নিয়াং। আলোচনায় অংশ নেন নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াউ সাঙ্গারে বাকারী, তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী নাফতি, গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসান্ডা কুয়াতে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ প্রতিনিধি জোয়া ক্রাভিনহো।
চার দিনের সফরে গত শনিবার সেনেগাল গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এটি শামা ওবায়েদের প্রথম বিদেশ সফর। আগামী ২৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা।